স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ফের দলীয় কর্মীর ক্ষোভের মুখে পড়লেন বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। ওই মহিলা কর্মী দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হল তাঁর সামনে থেকে। বৃহস্পতিবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের কর্মিসভার সময় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি।

এদিন তৃণমূল পরিচালিত নগরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে দলের এক মহিলা কর্মী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, পঞ্চায়েতে আমাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আদিবাসী হওয়ায় আমার কথা শোনা হয় না। ব্যাস এতটাই। তার পরই মহিলার সামনে থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেন সভার আয়োজকরা।

উল্লেখ্য, ক’দিন আগেই খারাপ রাস্তা নিয়ে এক বুথ সভাপতির ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।
পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামে দলের বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলনে বুথস্তরের কর্মীরা তাঁর কাছে একাধিক অভিযোগ পেশ করেন। কোথাও সরকারি আবাস যোজনার বাড়ির অনুদান আটকে রয়েছে মাসের পর মাস। কোথাও গ্রামবাসীদের জবকার্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে। আবার কারও মুখ থেকে উঠে আসে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিই ক্ষোভের কথা। সেই বার অনুব্রত সবার অভিযোগ শুনলেও দলের কর্মীদের প্রতি তাঁর কড়া নির্দেশ ছিল “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের দিকগুলি সাধারণ মানুষদের কাছে তুলে ধরে বিধানসভা ভোটে লিড বাড়াতে হবে। যারা এখনও বিজেপি বা সিপিএমের প্রতি ঝুঁকে রয়েছে তাদের বুঝিয়ে দলে আনতে হবে।”

কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর প্রায় এদিনের মতই একটা ঘটনা ঘটেছিল। ওইদিন রাস্তা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বীরভূমের এক বুথ সভাপতি। বলেছিলেন ‘‘বাম আমলে রাস্তায় সাইকেলটা চলতো, এখন আর সেটাও চলে না।’’ বুথ সভাপতির মুখে এমন কথা শুনে মেজাজ হারান অনুব্রত মণ্ডল। প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই বুথ সভাপতিকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু তুমুল বিশৃঙ্খলায় কর্মীসভা প্রায় শিকেয় ওঠে। পরে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নির্দেশ প্রত্যাহার করেন অনুব্রত।

পর পর এধরণের ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূলে বিরোধিতার কোনও জায়গা নেই। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের প্রশ্ন, অভিযোগ করার সুযোগ না থাকলে লোকদেখানো কর্মিসভা কেন করছেন অনুব্রত। আর সেই কর্মিসভা সরাসরি সম্প্রচারেরই বা দরকার কি?

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।