কলকাতা: টলিপাড়ায় এখন ভোল পাল্টে ফুল বদলের হিড়িক।কেউ যাচ্ছেন তৃণমূলে, তো কেউ আবার বিজেপিতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা থেকে বললে,’ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’ .আর সাধারণ মানুষ বলছে,এখন যেন ফুলে ফুলে মধু খাওয়ার সিজন চলছে এখন। সবার মুখেই মোটামুটি এক বুলি,’দলে থেকে কাজ করতে পারছি না’,’দমবন্ধ হয়ে আসছিলো’ আর ‘জনগণের জন্য কাজ করতে চাই’. এরকম অবস্থায়, টলি মহল থেকে রাজনৈতিক মহল এর একাংশ বলছে, মানুষের জন্য কাজ করতে এটি উদগ্রীব হলে বা এতটাই মানব দরদী হলে,রাজনৈতিক ছাতার তলায় আসা কেন!!আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে,নেতা অভিনেতারা যেভাবে রং বদলাচ্ছেন তাতে সাধারণ মানুষ চিন্তায় মুখ মুখোশকে চিনবে কী করে তা নিয়ে।‘ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমাল’ এর মতন ‘ছিল বামপন্থী হয়ে গেল তৃণমূল’ বা ‘ছিল তৃণমূল হয়ে গেল বিজেপি’ ।

রুদ্রনীল ঘোষ, যশ দাশগুপ্ত, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, সৌমিলি বিশ্বাস,কৌশিক রায় পরপর প্রচুর নাম চলে আসছে গেরুয়া শিবিরের খাতায়। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহাগঞ্জের সভায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন টলিউডের একঝাঁক তারকা। যার মধ্যে সায়নী ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক, জুন মালিয়া, রাজ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়রা ছিলেন। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ম্যাচ ড্র করার চেষ্টায় পদ্মশিবির নিয়েছিল নয়া উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন টলিউড অভিনেত্রী পায়েল সরকার৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নেন তিনি৷

কিন্তু এর মধ্যেও অন্য ভাবধারায় বিশ্বাসী কয়েকজন। যাঁরা সেলিব্রিটি হলেও,কোনো রকম রাজনৈতিক রং লাগতে দেয়নি জীবনে। এরকমই এক জুটি অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা। দুজনেই বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বারংবার বলেছেন, রাজনীতির ময়দানে তাঁরা আসবেন না। অভিনয়টাই মন দিয়ে করতে চান। অঙ্কুশ মাঝে মধ্যেই নিজের সিনেমার জন্য হোক বা এমনি নানা মজার ভিডিও আপলোড করে থাকেন তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশে। আর এবার অঙ্কুশ পোস্ট করলেন এমন এক ছবি যা বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থাটা খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারে।

ছবিটির ওপরের অংশে দেখা যাচ্ছে,এক জন মঞ্চের ওপর থেকে বলছে,’কে বদল চায়’? আর নীচে দাঁড়িয়ে থাকা জনগণের সবাই হাত তুলছে,বদল এর দাবী জানিয়ে। আর ছবিটির দ্বিতীয় অংশে দেখা যাচ্ছে,মঞ্চের ওপর থেকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে,’কে বদলাতে চায়?’ আর তাতে নীচে দাঁড়িয়ে থাকা জনগণের মধ্যে কারুর হাত উঠলো না।

এই বিদ্রুপ করা পোস্ট দিয়ে অভিনেতা বোঝালেন, বদল সবাই চাইলেও, বদলাতে বা বদল আনতে যে সাহস লাগে তা বেশিরভাগ জনের মধ্যেই নেই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।