দেবযানী সরকার, কলকাতা: তৃণমূল-বিজেপির যুদ্ধ ঢুকে পড়ল পুজো কমিটির অন্দরে। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে কমিটির সভাপতি করা নিয়ে সংঘাত তীব্র হল কালীঘাটের সঙ্ঘশ্রীতে। যার জেরে কমিটির সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক চাপেই এই ইস্তফা বলে কলকাতা 24×7-কে জানিয়েছেন তিনি।

গত কয়েকদিন ধরেই শহরের হেভিওয়েট পুজোগুলির রং বদলের খবর শিরোনামে। শোনা যাচ্ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার পুরোনো পুজো সঙ্ঘশ্রীও এবার সবুজ থেকে গেরুয়া হচ্ছে। এই পুজোর উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দোপাধ্যায়। গত বছরও এই পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দিয়ে মণ্ডপের ফিতে কাটানোর কথা ভেবেছিল কমিটির একাংশ। এমনকি কমিটির সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রাজ্য বিজেপির নেতা সায়ন্তন বসুকে। যা নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে কমিটির অন্দরে।

সঙ্ঘশ্রীর বর্তমান সভাপতি শিবশংকর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, সায়ন্তন বসুকে যে পুজোকমিটির সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটা তিনি জানেনই না। শিবশংকরবাবুর বক্তব্য,” কমিটির দু-একজন তাঁকে সভাপতি করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু বাকিরা এরকম কিছু চান না।”

কমিটির সহ-সম্পাদক সৌরদীপ দাস বলেন, “আমাদের পুজো কমিটির সম্পাদক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী একটু আর্থিক সহায়তার জন্য সায়ন্তন বসুকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যাতে কেন্দ্রের কিছু বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। এছাড়া ওদের একটা বইয়ের স্টল মণ্ডপের বাইরে করার কথা ছিল। সেটা উদ্বোধন করতেন অমিত শাহ। তাই একসঙ্গে মণ্ডপও উদ্বোধন করানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল রাতে সম্পাদকের পদ থেকে অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দিয়েছেন। নতুন করে আবার কমিটি তৈরি হচ্ছে।”

পুজোর মুখে হঠাৎ ইস্তফা দেওয়ার কারণ কি? অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “খানিকটা রাজনৈতিক চাপ থেকেই ইস্তফা দিয়েছি। আসলে আমার এসব নোংরামো ভালো লাগে না। পুজোটাকে একটা রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” সভাপতি শিবশংকর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শারীরিক কারণে ইস্তফা দিয়েছেন সম্পাদক।আগামী বুধবার কালীঘাটের সংঘশ্ৰীতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওইদিনই নতুন কমিটি গঠিত হবে।