শংকর দাস, বালুরঘাট: আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন প্রায়৷ কারণ টাকা ভরতি মানিব্যাগ পেয়ে সেই টাকা আজকাল অন্তত আর কেউ ফেরত দেয় না৷ অবশ্য টাকার জন্য অত খারাপ লাগা না থাকলেও, দরকারি নথি পত্রগুলোর খোওয়া যাওয়াটা বেশি ভাবাচ্ছিল আশুতোষ কলেজের ছাত্র সুশম নিয়োগীকে৷ চিন্তায় ছিল পরিবারও৷

বালুরঘাটের বাসিন্দা, সমাজসেবী জিষ্ণু নিয়োগী। তাঁর পুত্র সুশম নিয়োগী কলকাতার আশুতোষ কলেজের ছাত্র। দুর্গাপুজোর নবমীর বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেড়িয়ে যাদবপুর-টালিগঞ্জের মাঝে তাঁর মানিব্যাগটি হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও না পেয়ে সেটির আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন সুশম। ব্যাগের মধ্যে ছিল নগদ পাঁচশো টাকা, এটিএম ও প্যান কার্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাগজও৷ এক মাসও হয়নি৷ হঠাতই বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির হয় ক্যুরিয়ার বয়৷ হাতে একটা প্যাকেট৷

আরও পড়ুন : প্রশাসনিক সহায়তা চাই? জেলায় চালু টোল ফ্রি নম্বর

প্যাকেট দেখে বেশ অবাক হয় নিয়োগী পরিবার৷ কারণ প্যাকেটের গায়ে ছিল অচেনা প্রেরকের নাম৷ দিন কাল ভাল নয়৷ প্রথমে একটু ভয়ই পেয়েছিলেন তাঁরা৷ তবে সাহস যুগিয়ে প্যাকেট খোলা হয়৷ আর প্যাকেট খুলতেই অবাক কাণ্ড৷ বেরিয়ে আসে সেই হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগ৷ টাকাপয়সা, কার্ড, কাগজ পত্র সব রয়েছে যথাস্থানে৷ একচুলও নড়েনি কিছু৷ সব দেখে রীতিমতো হতবাক সুশমের পরিবার৷ হতবাক সুশম নিজেও৷

পরে ক্রমশ ঘটনা সামনে আসে৷ কলকাতারই এক বাসিন্দা সেটি কুড়িয়ে পেয়ে ভেতরে থাকা কাগজপত্রে উল্লেখিত ঠিকানায় সেই মানিব্যাগ ক্যুরিয়র করে দেন৷ প্যাকেটের ওপর লিখে দেন নিজের নাম-ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর৷ প্যাকেটের ওপর লেখা ছিল প্রেরকের নাম, অনিল বোস। ঠিকানা ৩০১, ত্রিপল্লী, কলকাতা ৪১।

আরও পড়ুন : ১১ বছর বয়সেই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের পড়িয়ে তাক লাগাল মহম্মদ হাসান আলি

ডিজিটাল দৌড়ের ব্যস্ততা আর কংক্রিটের ভিড়ের মাঝেও যে মানবিক দায়িত্ব এখনও বেঁচে রয়েছে, তার প্রমাণ দিল এই ছোট্ট ঘটনাটি৷ আকারে ছোট্ট হলেও, ভবিষত্যের গর্ভে যে ছাপ রেখে গেলেন অনিল বোস, তা বেঁচে থাকবে নিয়োগী পরিবারের কৃতজ্ঞতা স্বীকারে৷