নয়াদিল্লি: নির্ভয়া কাণ্ডে শুনানি চলাকালীন আদালতেই অজ্ঞান নির্ভয়াকাণ্ডের বিচারপতি। শুনানির সময় অজ্ঞান হয়ে যান আর ভানুমতী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চেম্বারে নিয়ে যায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রাথমিক ভাবে তাঁর চিকিৎসা করা হয়।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, মারাত্মক জ্বর নিয়েই বিচারকাজ শুরু করেছিলেন আর ভানুমতী। সেই কারণেই হয়তো জ্ঞান হারান তিনি। এমনকি শুনানি চলাকালীন সময়েও ওষুধ চলছিল তাঁর। এখনও তাঁর প্রবল জ্বর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণকাণ্ডে দোষী বিনয় শর্মার ক্ষমাপ্রার্থনার আর্জি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি এও জানানো হয় পৃথকভাবে ফাঁসি দেওয়া হোক নির্ভয়াকাণ্ডের অপরাধীদের, কেন্দ্রের এই আবেদনের শুনানি আগামী মঙ্গলবার হতে চলেছে ।

নির্ভয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জয়ের পর প্রথমে ফাঁসির দিন ধার্য হইয়েছিল জানুয়ারির ২২ তারিখ সকাল ৬টায়। দোষীদের পুনরায় আবেদনের ভিত্তিতে তা ক্রমশ পিছিয়ে যেতে থাকে। আইনি জটিলতা কিছুটা কাটলে ফের ফাঁসির দিন ঠিক করা হয় ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ সকাল ৭টায়, তাও শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।

নির্ভয়াকাণ্ডে চার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ দেয় দিল্লি আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার।

উল্লেখ্য, ২০১২-তে এক ভয়াবহ ঘটনায় দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছিল এক তরুণীর। দেশের মানুষ তাঁকে নাম দিয়েছিল নির্ভয়া। ফাঁকা বাসে নৃশংস গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী।

বিচারের আশায় দিনের পর দিন ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তাঁর মা আশা দেবীকে। অনেক চোখের জল ফেলেছেন তিনি। দিনের পর দিন ধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। দু’বছর আগেই অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। এরপর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় ফাঁসি কার্যকর হয়নি।তবে হাল ছাড়েননি নির্ভয়ার বাবা-মা। মেয়ের আত্মা যাতে শান্তি পায়, তার জন্য দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন বারবার।