সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সারা ভারতের লক্ষ লক্ষ নার্সের দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া হল নয়া উদ্যোগ। মানুষকে বাঁচাতে তাদের ভূমিকাকে আরও সক্রিয় করতে নেওয়া হল এই উদ্যোগ। কয়েকটি ধাপে এই কাজ করা হবে। বিশেষ এই উদ্যোগ নিয়েছে অ্যাপোলো হসপিটাল গ্রুপের ও ইমপ্যাক্ট গুরু ফাউন্ডেশন। সঙ্গে রয়েছে আরও অনেক সংস্থাও।
জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ANGEL’। এর অর্থ ‘Advance Nurses’ Growth Excellence and Learning’। আন্তর্জাতিক নার্স দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। সারা ভারতের ১,০০,০০০ নার্সের দক্ষতা বাড়ানো এর মূল উদ্দেশ্য। এই প্রকল্প চলাকালীন অত্যাধুনিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য স্কলারশিপের মাধ্যমে নার্স পিছু ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত লগ্নি করতে এই উদ্যোগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অলাভজনক পার্টনারদের সহযোগিতায় ভারতের সমস্ত নার্সকে বিনামূল্যে কনটেন্ট ও প্রশিক্ষণ দেওয়াও এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জোর থাকবে কোভিড সংক্রান্ত ক্লিনিকাল, জনস্বাস্থ্য এবং সঙ্কট মোকাবিলার দিকগুলোতে, যাতে নার্সরা আরো বেশি জীবন বাঁচানোর ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে নার্সিং-এর কাজে যুক্ত কর্মীবাহিনীর স্বাস্থ্য পরিষেবার নানাবিধ প্রয়োজন মেটাতে পারার মত সামগ্রিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ হবে। এর ছটা প্রধান দিক থাকবে, যথা ক্লিনিকাল অনুশীলন, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ, মেডটেক, গবেষণা, আন্তর্জাতিক নার্সিং মডেলসমূহ এবং নার্স কর্মী। এই প্রকল্প পরিচালনা করা হবে এক বিস্তারিত প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে। এতে প্রযুক্তির প্রয়োগ, শিক্ষাগত উৎকর্ষ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নার্সিং অ্যাডভাইসরি বোর্ডের জন্য আলাদা আলাদা স্টিয়ারিং কমিটি থাকবে। ন্যায্য এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতার সামাজিক প্রভাবসম্পন্ন কাজ করা নিশ্চিত করতে এই কমিটিগুলোতে থাকবেন কর্পোরেট এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা। এই প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করবে যে প্রকল্পে সংগৃহীত টাকার ব্যবহার এবং বিতরণের অডিট পেশাদার ও স্বাধীন পর্যালোচনা পার্টনাররা করছেন।
অ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপ অ্যান্ড প্যাট্রন অফ দ্য ‘কোভিড ওয়ারিয়র আপস্কিলিং প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান ডাঃ প্রতাপ সি রেড্ডি বলেন,  “অতিমারী নার্সদের গুরুত্ব যেভাবে চোখের সামনে তুলে ধরেছে তা আগে কখনো হয়নি। তাঁরা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন এবং জীবন বাঁচানোয় তাঁদের বিরাট অবদান। এত আত্মত্যাগের মধ্যে তাঁরা অনুল্লিখিত নায়ক। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের নার্সদের এক উজ্জ্বলতর ও সমৃদ্ধ ভবিষৎ দেওয়ার জন্য এই দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে।”
অ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ সঙ্গীতা রেড্ডি বলেন , “নার্সরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সামনের সারির বৃহত্তম কর্মীবাহিনী এবং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান যোদ্ধা। দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্প এই কর্মীবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান দেবে, যা পেশাগত উন্নতিতে সাহায্য করবে আবার রোগীদের পক্ষেও উপকারী হবে। নার্সদের জন্য নিজের কর্মজীবনের রূপান্তর ঘটানোর সাথে সাথে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার এ এক অনন্য সুযোগ।”
ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিল অ্যান্ড এক্স-নার্সিং অ্যাডভাইসার টু দ্য গভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ডাঃ টি দিলীপ কুমার বলেন, “জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ক্রমাগত নার্সদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর জোর দিয়েছে, যাতে নানারকম ক্লিনিকাল স্পেশালাইজেশনে তাদের কর্মজীবনে উন্নতি হয় এবং তাদের নার্স প্র্যাকটিশনার হিসাবে প্রশিক্ষিত করা যায়। তা করা হলে তারা স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থায় উপযুক্ত টিম মেম্বার হিসাবে কাজ করতে পারবে। ANGEL প্রকল্পের লক্ষ্য নার্সদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের নিজের ভূমিকা ও পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া। এই উদ্যোগ WHO-র স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড নার্সিং (SOWN) রিপোর্টের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ; যা নার্সিং শিক্ষায় লগ্নি, পদ এবং নেতৃত্ব তৈরিতে লগ্নিকে কেন্দ্র করে তৈরি।”
 ইমপ্যাক্ট গুরু ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ জৈন, ‘ভারতের নেতৃস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপকে ফাউন্ডিং সার্কল মেম্বার হিসাবে পেয়ে এবং আরও অনেক যুগান্তকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা প্রদানকারী এবং কর্পোরেট পার্টনারের সমর্থন সহ এই উদ্যোগ লঞ্চ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা কর্পোরেট, ফাউন্ডেশনগুলো এবং ব্যক্তিদের আমাদের এই মিশনে যুক্ত হতে আমন্ত্রণ জানাই। আমাদের লক্ষ্য আমাদের ANGELS আর নার্সদের ক্ষমতায়ন। আপনারা CSR ও অনলাইন অনুদানের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সমর্থন করে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করুন। আমাদের উদ্দেশ্য ভারত এবং বিদেশের সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাথে জুটি বেঁধে আমাদের নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং তারপর তাদের কর্মজীবনের সেরা পরিণতি নিশ্চিত করা। কোভিডের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে নার্সরা অসংখ্য আত্মত্যাগ করেছেন।”
মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট অনন্ত মাহেশ্বরী বলেছেন, “সারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ভাল থাকায় নার্সিং গোষ্ঠী এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সামনের সারির পেশাদারদের এই গোষ্ঠীকে সাহায্য করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের সংস্থান, সাজসরঞ্জাম, মতামত এবং দক্ষতা সবকিছু দিয়ে সদা পরিবর্তনশীল এবং এখনকার চ্যালেঞ্জের পৃথিবীতে আমরা তাঁদের সাহায্য করতে চাই। মাইক্রোসফট ‘ANGEL #ThankANurse আপস্কিলিং প্রোগ্রাম’ কে সাহায্য করতে পেরে এবং যাঁরা আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সুযোগ্য পাত্র, তাঁদের কিছু ফিরিয়ে দিতে আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.