মেলবোর্ন: আগামী সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম ঘিরে সাজো-সাজো রব মেলবোর্নে। কিন্তু অনুরাগীদের কাঁদিয়ে হঠাৎই ঘোষণাটা ভেসে এল শুক্রবার। ‘আসন্ন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই হতে পারে কেরিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট’, জানিয়ে দিলেন অ্যান্ডি মারে।

শুক্রবার ঘোষণার সময় কান্নাটা চেপে রাখতে পারলেন না বিশ্বের প্রাক্তন পয়লা নম্বর। সাংবাদিক সম্মেলনেই ভেঙে পড়লেন এই ব্রিটিশ টেনিস তারকা। দিনে দিনে অসহনীয় হয়ে উঠছে তাঁর হিপ ইনজুরি। ফলে খানিকটা বাধ্য হয়েই তাঁকে র‍্যাকেট তুলে রাখার কথা ভাবতে হচ্ছে, জানিয়ে দিলেন তিন-তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম বিজয়ী। ‘চোট-আঘাতজনিত একাধিক সমস্যা তাঁকে টেনিস উপভোগ করতে দিচ্ছে না। কোনও প্রতিযোগীতা কিংবা ট্রেনিং সেশন তাঁর কাছে দুর্বিসহ হয়ে উঠছে’, সাংবাদিকদের জানান মারে।

চলতি বছর উইম্বলডন খেলার পর ঘরের মাঠেই টেনিস সার্কিটকে প্রথমে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তাঁর জার্নিটাকে অতদূর টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করেন ‘স্যার অ্যান্ডি’। ৭৭ বছরে প্রথম ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন জয়ের নজির রয়েছে মারের। পাশাপাশি টেনিসের গোল্ডেন এরায় রজার ফেডেরার, নোভাক জকোভিচ কিংবা রাফায়েল নাদালের মত কিংবদন্তিদের সঙ্গে কোর্ট শেয়ার করে নেওয়ার সুবাদে অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল রয়ে যাবেন অ্যান্ডি।

‘দীর্ঘ সময় ধরে চোট-আঘাত সমস্যায় ভুগে চলেছি। আরও চার-পাঁচ মাস আমার পক্ষে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা জানিনা। তাই ইচ্ছে থাকলেও উইম্বলডন খেলার বিষয়ে নিশ্চিত নই।’ সাংবাদিক সম্মেলনে আবেগঘন গলায় জানান এই টেনিস তারকা। অস্ত্রোপ্রচারের কারণে গতবছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন ২০১২ লন্ডন এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে সোনাজয়ী।

জুনে চোট সারিয়ে ফিরে এলেও সার্কিটে অনিয়মিত হয়ে পড়েন মারে। সেপ্টেম্বরে শেষ টুর্নামেন্ট খেলার পর একশো শতাংশ ফিট হয়ে কোর্টে ফেরার সংকল্প নেন এই ব্রিটিশ তারকা। তবে গত সপ্তাহে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে যান তিনি। এরপর অস্বস্তি বাড়িয়ে মেলবোর্নে জকোভিচের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের মাঝপথেই খেলা ছাড়েন মারে। সমস্তদিক পর্যালোচনা করে তাঁর এই ঘোষণায় স্বভাবতই মুষড়ে পড়েছেন মারের অনুরাগীরা।

২০১২ ইউএস ওপেন কেরিয়ারের প্রথম গ্ল্যান্ডস্লাম জয় মারের। ২০১৩,২০১৬ ঘরের মাঠে উইম্বলডন জেতেন এই ব্রিটিশ টেনিস স্টার। ধারাবাহিক ভাল পারফরম্যান্স ২০১৬ তাঁকে র‍্যাংকিংয়ের শিখরে পৌঁছে দেয়। তিনটি গ্র্যান্ডস্লামের পাশাপাশি লন্ডন এবং রিও’র মাটিতে টানা দুটি অলিম্পিকে সোনাজয়ের নজির রয়েছে মারের ঝুলিতে।