বিশাখাপত্তনম: সাহসী সিদ্ধান্ত বাংলা অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারির৷ প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়ে তিওয়ারি লক্ষ্যে সফলও হয়েছিলেন প্রায়৷ তবে আলো কমে যাওয়ায় শেষমেশ হতাশ হতে বাংলা শিবিরকে৷ অন্ধ্র-বাংলা উত্তেজক রঞ্জি ম্যাচ শেষ হয় নিস্ফলা ড্র’য়ে৷ গ্রুপের লাস্ট বয়ের কাছে পয়েন্ট খুইয়ে নক-আউটের দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে হয় মনোজদের৷

আরও পড়ুন: মনোজের জন্মদিন ঘিরে গুমোট কাটল বাংলার ড্রেসিংরুমের

প্রথম ইনিংসে বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই ম্যাচে নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়াল শেষমেশ৷ টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলা প্রথম ইনিংসে ৩০০ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ অন্ধ্রপ্রদেশ কোনও রকমে ৩২১ রান তুলে প্রথম ইনিংসের নিরিখে ২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে নেয়৷ শেষ দিনে যখন নিয়মরক্ষার ম্যাড়মেড়ে লড়াইয়ের প্রত্যাশায় সবাই মুখ ফিরিয়ে ছিলেন ম্যাচ থেকে, ঠিক তখনই বাংলার চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত ম্যাচে প্রাণ সঞ্চার করে পুনরায়৷

আরও পড়ুন: অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া মনোজের

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলা রীতিমতো ওয়ান ডে’র ঢংয়ে রান তোলে৷ ৫.৫১ গড়ে ৪০.৩ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২২৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয় বাংলা৷ অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন৷ সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ৫৬ বলে ৪৭ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন৷ অভিষেক রামন ৬, মনোজ ১৮, অগ্নিভ পান ২৫, শাহবাদ ১২ ও প্রদীপ্ত ১০ রান করা আউট হন৷ ঋত্ত্বিক নটআউট থাকেন ৪০ বলে ৪০ রান করে৷

আরও পড়ুন: ছেলের নাম লেখা ব্যাটেই বাজিমাত মনোজের

সুতরাং জয়ের জন্য ৪৮ ওভারে ২০৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় অন্ধ্রের সামনে৷ হারের ঝুঁকি ছিল পুরোমাত্রায়৷ আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জয়ের জন্য ঝাঁপিয়েছিল অন্ধপ্রদেশ৷ এক সময় ১৬ ওভারে ১ উইকেটে ৯৩ রানে দাঁড়িয়েছিল অন্ধ্র৷ তখন বাংলার হার প্রায় নিশ্চিত দেখাচ্ছে৷ এর পরেই দিন্দা, ইশান ও মুকেশ পর পর উইকেট তুলে বাংলার জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন৷ তবে মন্দ আলোয় নির্ধারিত ওভারের খেলা হওয়া সম্ভব না হওয়ায় দু’দলেরই জয়ের আশা নির্মুল হয়ে যায়৷

আরও পড়ুন: ঋত্ত্বিকের হাফ-সেঞ্চুরিতেও চাপ কাটল না বাংলার

২৮ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ১৭০ রান তুললে আম্পায়াররা ম্যাচ ড্র ঘোষণা করেন৷ প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে তিন পয়েন্ট ঘরে তোলে অন্ধ্র৷ স্বান্তনার এক পয়েন্ট ঢোকে বাংলার ঝুলিতে৷ ৬ ম্যাচের শেষে বাংলার সংগ্রহে রয়েছে এই মুহূর্তে ১৬ পয়েন্ট৷ ঘরের মাঠে দিল্লি ও পঞ্জাবের বিরুদ্ধে শেষ দু’টি ম্যাচে মিরাকল কিছু করে দেখাতে না পারলে বাংলার নক-আউটে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ৷ প