ফাইল ছবি

হায়দরাবাদ: ঠিক মতো প্রশাসনিক কাজ করতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রীর বকুনি হজম করতে হয় আমলাদের৷ কিন্তু কাজ করতে না পারলে জেলাশাসকের অফিসের সামনে অনশনে বসার হুমকি কস্মিনকালে কখনও কোন মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে দেখা গিয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে তাই হয়েছে৷ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জেলাশাসকের অফিসের সামনে অনশনে বসার হুমকি দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু৷

স্বচ্ছ অন্ধ্র প্রদেশ মিশনের অধীনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় শৌচালয় নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ৩১শে মার্চের মধ্যে সেই শৌচালয়গুলি তৈরি করে দিতে হবে৷ এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জেলাশাসকদের৷ কিন্তু সাতটি জেলা এখনও পর্যন্ত সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও পৌছাতে পারেনি৷ এতেই চটে যান মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু৷ শ্রীকাকুলাম জেলার ইচ্ছাপুরম শহরে এক অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমি খুব সিরিয়াস৷ ওই সব জেলার কালেক্টরদের অফিসের সামনে অনশনে বসব৷ তাতে যদি আধিকারিকরা লজ্জিত বোধ করেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন৷’’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৩১শে মার্চের মধ্যে স্বচ্ছ অন্ধ্র প্রদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত ছ’টি জেলা -কৃষ্ণা, পশ্চিম গোদাবরী, পূর্ব গোদাবরী, গুনটুর, প্রকাশম এবং নেল্লোরে- সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে৷ ৩১শে মার্চের পর আমি সেই সব গ্রামে যাব সেখানে শৌচালয় তৈরি করা যায়নি৷

জেলাশাসকদের অফিসের সামনে অনশনে বসব৷ যতদিন না পর্যন্ত শৌচালয় নির্মাণ না হবে ততদিন অনশন চালিয়ে যাব৷’’ আক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সব বাসিন্দাদের হাতে মোবাইল ফোন আছে৷ কিন্তু সব বাড়িতে শৌচালয় নেই৷ এদিকে বিহারে মহিলারা তাদের মঙ্গলসূত্র বিক্রি করে দিয়েছেন শৌচালয় নির্মাণের জন্য৷ প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় থাকা কতটা জরুরি বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে তাও তুলে ধরেন চন্দ্রবাবু৷ বলেন, ‘‘এর সঙ্গে আত্মমর্যাদা, নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে৷ বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে৷ তিনি শৌচালয় নির্মাণ আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে পরিণত করারও ডাক দেন৷