স্টাফ রিপোর্টার, দূর্গাপুর: চালু হচ্ছে অণ্ডাল-চেন্নাই বিমান পরিষেবা ৷ ২৭ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন এই বিমান চলাচল করবে ৷ দীর্ঘদিন পর এই পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি এলাকার লোকজন৷

জানা গিয়েছে, স্পাইস জেটের ১৬৮ আসন বিশিষ্ট এই বিমান প্রতিদিন চেন্নাই ও অণ্ডালের মধ্যে যাতায়াত করবে ৷ ভাড়া পড়বে ৩৮৯৮ টাকা ৷ চেন্নাই থেকে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানটি অণ্ডালে এসে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ৷ আবার ওই বিমানটি অণ্ডাল থেকে ছাড়বে রাত ৮টা ২০মিনিটে ৷ চেন্নাই বিমানবন্দরে নামবে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে । অর্থাৎ মাত্র আড়াই ঘণ্টায় অণ্ডাল থেকে চেন্নাই যাওয়া যাবে ।

উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের সময় দেশের প্রথম অণ্ডালে বেসরকারি বিমাননগরী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয় । ২০১২ সালে তৃণমূল সরকারের হাত ধরে অণ্ডালে প্রায় ২৩০০ একর জমিতে নির্মীয়মাণ অণ্ডাল বিমাননগরী নির্মাণে দ্রুততা আসে।২০১৫ সালের মে মাসে চালু হয় অণ্ডাল বিমানবন্দর। কিন্তু পর্যাপ্ত যাত্রী না মেলায় বারবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিমান পরিষেবা। বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পরে ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল দিল্লি-দুর্গাপুর-দিল্লি রুটে সপ্তাহে চার দিন উড়ান চালু হয়৷ চলতি বছরের জুন মাসে অন্ডাল-মুম্বই বিমান চলাচল শুরু হয়েছে৷ এ বার চেন্নাই পর্যন্ত বিমান পরিষেবা মিলবে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার বাসিন্দারা ছাড়াও পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বহু ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিও এই বিমানবন্দরটিকে ব্যবহার করছেন। এই বিমানবন্দর থেকে আরও কয়েকটি রুটেও বিমান চালানো নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে উড়ান প্রকল্পে কম খরচে অণ্ডাল থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইয়ে বিমান পরিষেবা চালু হওয়ায় জেলার বাসিন্দারা খুশি। ব্যবসার কাজে ছাড়াও চিকিৎসার জন্যও অনেককেই চেন্নাই যেতে হয়। ট্রেনের টিকিট অনেক সময় কনফার্ম না হওয়ায় জেলার বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়। বিমান পরিষেবা চালু হয়ে গেলে সেই চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে বলে বাসিন্দারা মনে করছেন।

এই বিষয়ে দুর্গাপুর বণিক সভার সভাপতি কবি দত্ত বলেন, “দারুণ খবর । এটাই আমাদের কাছে এবারের পুজোয় বাম্পার উপহার । আমাদের দাবি ছিল এটা । সাধারণ মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবেন । আর কলকাতা গিয়ে বিমানে চেন্নাই যাওয়ার ধকল সহ্য করতে হবে না । আশপাশের বহু রাজ্য ও জেলার মানুষও এই পরিষেবায় উপকৃত হবেন ।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে চিকিৎসা পরিষেবার কারণে চেন্নাই পাড়ি দেন বাংলার অনেকেই । দীর্ঘ ট্রেন যাত্রার কারণে অসুস্থ রোগীদের কষ্ট বাড়ে ৷ বিমানে যাতায়াতের ফলে কষ্ট অনেকটাই কমবে বলে আশা ৷ এছাড়াও রোগীকে নির্বিঘ্নে নিয়ে আসা যাবে বিমানে ।”