কলকাতা: স্ট্রেচারে শুয়ে আদালতের ভিতরে ঢোকে গোপন জবানবন্দি দিলেন আনন্দপুরকাণ্ডের প্রতিবাদী নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়৷ সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, যতদিন বাঁচব ততদিন অন্যায়ের প্রতিবাদ করব৷ পাশাপাশি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি৷

সোমবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে আলিপুর আদালতে আসেন নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়৷ তারপর স্ট্রেচারে শুয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গিয়ে গোপন জবানবন্দি দেন৷

এদিকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষে সোমবার অভিযুক্ত অভিষেক পাণ্ডেকে আলিপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ৷ জামিনের আবেদন করা হলে,তা নাকচ করে আদালত৷ পাশাপাশি আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ফের হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক৷

এর আগে আনন্দপুর কাণ্ডে আলিপুর আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছিলেন প্রতিবাদী মহিলার স্বামী দীপ সৎপথি৷ কারণ রাতের বাইপাসে এক তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়৷ ঘটনার সময় নীলাঞ্জনার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী দীপ সৎপথি৷

ঘটনার পর নির্যাতিতা তরুণী অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ না করলেও, প্রতিবাদী নীলাঞ্জনা আন্দপুর থানায় এফআইআর করেন৷ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷

সেদিন প্রতিবাদী নীলাঞ্জনার স্বামী দীপ সৎপথি প্রথমে আন্দপুর থানায় যান৷ সেখান থেকে আলিপুর আদালতে যান দীপবাবু৷ তারসঙ্গে থানার তদন্তকারী আধিকারিকরাও আদালতে যান৷

লালবাজার ও আন্দপুর থানায় যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত অভিষেক পান্ডেকে গ্রেফতার করা হয়৷ অভিযুক্তকে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ৷ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন জয়েন্ট সিপি ক্রাইম এবং ডিসি৷ হাসপাতালে গিয়ে নীলাঞ্জনার সঙ্গে কথা বলেছিলেন ডিসি ই’ডি৷ লালবাজারের কর্তাদের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল লালবাজার সায়েন্টিফিক উইং৷

কিছুদিন আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান আনন্দপুরকাণ্ডের প্রতিবাদী নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়৷ তবে তাকে বাড়িতে ৩ মাস বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসরা৷ নীলাঞ্জনাকে হাসপাতালের কর্মীরা হাততালি ও গান গেয়ে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলেন৷

প্রতিবাদী নীলাঞ্জনার সমস্ত চিকিৎসার খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার৷ শুধু তাই নয়,সাহসিকতার জন্য নীলাঞ্জনাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এছাড়া তার প্রশংসা করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।