সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এতদিন লকডাউন কোনও প্রশ্নের মুখে পড়েনি। কিন্তু আনন্দবিহারের সেই ছবি হঠাৎ যেন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। বহু সাধারণ মানুষ যেমন প্রশ্ন তুলছেন যে লকডাউন করার আগে এই শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে দেওয়ার সময় দেওয়া হল না কেন তেমনই সমাজের সমাজের বেশ কিছু পরিচিত মুখ এবার প্রশ্ন তুলছেন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়ে। তা

রা মনে করছেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু কাজ আগেই সেরে ফেলা উচিৎ ছিল। দাবী, দেশের শ্রমিক শ্রেণীদের নিয়ে ভাবা হয়নি বলেই লকডাউন সোশ্যাল ডিস্টেন্সের বাঁধকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে আনন্দবিহারে বাড়ি ফেরার চেষ্টায় জমা হওয়া হাজার হাজার শ্রমিক।

যেমন পরিচালক অনিক দত্ত বলেছেন, ‘এদের জন্য ভাবতে হবে না। নিজের কোথা ভাবুন। ‘Food riot’ হলে আমরা কেউই নিষ্কৃতি পাব না।’ পরিচালক পাভেল বড় একটা পোস্ট করে লিখেছেন , ‘দিল্লীতে প্রচুর ঠিকে শ্রমিকরা কাজ করতেন,দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে, যাদের আমরা কন্স্ট্রাকশন লেবার বলি। এই করনার প্রকোপে তাদের মালিকেরা অনেক কেই মাইনে ছাড়া বা অল্প মাইনে দিয়ে তাড়িয়ে দেন। তাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল, আন্ডার কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এ সেখান থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়, কেউ কেউ ঘর ভাড়া করে থাকতেন, বাড়িওয়ালাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে,কাজ না থাকলে মালিকেরা টাকা দেয়না। তাই তারাও তাড়িয়ে দিলেন।

ইতি মধ্যে গোটা দেশ ও রাস্তা লক্ডাউন , তো তারা হেটে হেটে বাড়ি যাচ্ছে। আপনারা এন ডি টিভি বা কুইন্টে ভিডিও দেখেছেন তারা হেটে হেটে বাড়ি যাচ্ছেন, কেউ ৭০০কি.মি. কেউ ১৫০ কেউ ৭০ কেউ ৮০, তারা হাটছে, কেউ পরিবার নিয়ে হাটছে, দুই কাঁধে দুটো বাচ্চা নিয়ে, কেউ একা হাটছে, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাটছে…তারা হাটছে। দিল্লীর রাজপথে নিলগাই ঘুরছে, কোথাও বাদর ফেরত এসছে কোথাও পাখি ফেরত এসছে আমরা দেখছি, সেই অবস্থায় আমাদের এই বন্ধ দেশে মানুষ হাটছে, তারা হেটে হেটে বাড়ি ফিরছে।

সরকার অনেক পরে হলেও তাদের জন্যে বাস পাঠায়, আনন্দ বিহারে অনের বাস এসছে, তখন ঝাকে ঝাকে সেই হাজার হাজার মানুষ আনন্দ বিহারে ভিড় করছেন বাড়ি ফেরার জন্যে এবং টিভিতে সব জায়গাতে তারা অবৈজ্ঞানিক, অশিক্ষিত, কারণ তারা জটলা করছেন। আমি যদি প্রশ্ন করি তারা কেন জটলা করছেন?’ ‘হঠাৎ যদি উঠল কথা’

এই VLOG-এর সূত্রে এখন সোশ্যাল মাধ্যমের পরিচিত মুখ পৌলমী নাগ। তিনি বলেছেন, ‘এরা গরিব মানুষ, এরা পেটের জ্বালায় রাজ্যে রাজ্যে ঘোরে, এরা ক্ষুধার তাড়নায় সকালবেলা উঠে কাজ করতে যায়, তাই এর ছড়াচ্ছে, এরা ছড়াচ্ছে বলার আগে যারা এনেছিলেন, তারা কি কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কাজ করেছিলেন ভালো করে মনে করুন। আমাদের দেশে বড়লোকেরা পকেটে তালা আটকে বসে কেন জিজ্ঞেস করুন।

বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং দেশের সরকারের এদের খেয়াল রাখা দায়িত্ব বর্তায় গরিব হওয়া মহাপাপ। কিন্তু এই পাপের জন্য ঘৃণার পাত্র এরা নয়। এরা আছেন বলেই দেশ চলে, এরা আছেন বলেই অর্থনীতির চাকা ঘোরে।’

প্রসঙ্গত , শনিবার দুপুর থেকে রাজধানীর আনন্দবিহার বাসস্টান্ডে প্রায় হাজারেরও বেশি মানুষকে সেখানে ভিড় করতে দেখা যায়। উপলক্ষ্য, তাঁদের বাস আসবে। আর সেই বাসে চড়ে গোটা দেশের নানান প্রান্তে পাড়ি দেবেন ভিনরাজ্যের শ্রমিকেরা। কেউ বা উত্তরপ্রদেশের আবার কেউ মধ্যপ্রদেশ, বিহার বা পশ্চিমবঙ্গ এমন নানান জায়গার। রেলযাত্রা আপাতত বন্ধ। তাই ভরসা এখন কেবল বাস। আনন্দবিহার এলাকার প্রায় ৩ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মস্ত লাইন দেখা যায় মানুষের। দিল্লিতেই ধুলিস্যাত হয়ে যায় কেন্দ্রের সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং বার্তা।