সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি যে কি ভয়ঙ্কর এক ব্যক্তিত্ব তা বোঝা যায় তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের কিছু ঘটনার কথা থেকে। বহু প্রমানের মতো তেমনই এক প্রমান মেলে উপেন্দ্র নাথ বসুর এক লেখনি থেকে। ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসির সময় দুজন বাঙালী উপস্থিত ছিলেন।

একজন উপেন্দ্র নাথ বসু আর অন্যজন ক্ষেত্রনাথ বন্দোপাধ্যায়। জানা যায় কোর্ট রুমে তিনি তার নিক্ষেপ করা বোমা নিজে হাতে একে দেখাতে চেয়েছিলেন বিচারককে। রাগে গড়গড় করলেও কিচ্ছু অদ্ভুতরকম নির্বিকার ছিলেন ক্ষুদিরাম। চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে।

উপেন্দ্র নাথ বসুর লেখা থেকে জানা যায়, মজঃফরপুরে উকিলদের একটি ছোট্ট আড্ডা ছিল। তাঁরা প্রতি শনিবার সেখানে গল্প করতেন। ১লা মে তাঁরা জানতে পারেন, মজঃফরপুর থেকে ২৪ মাইল দূরে উষা নামক স্টেশনে একটি বাঙালি ছাত্রকে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে। পুলিশ তাকে ধরে সাহেবদের ক্লাবের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ উডম্যান তার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে।

পরের দিন সকালে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট উডম্যান বাঙালী উকিলদের এজলাসে ডেকে পাঠায়। উপেন্দ্র নাথ বসু ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে উপস্থিত হয়ে দেখেন, কাঠগড়ায় একটি বছর পনেরোর বছরের এক বালক। বাঙালী উকিল দেখে সে অল্প অল্প হাস।

উডম্যান সাহেব যখন ছেলেটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন তাঁরা জানতে পারেন ছেলেটির নাম ক্ষুদিরাম বসু। নিবাস মেদিনীপুর। ক্ষুদিরামের বর্ণনা পড়িতে পড়িতে ক্রোধে উডম্যান সাহেবের বদন রক্তবর্ণ ও ওষ্ঠ কম্পিত হয়ে যাচ্ছিল। দায়রায় ক্ষুদিরামের পক্ষ সমর্থনের জন্য কালিদাসবাবুর নেতৃত্বে উপেন্দ্রনাথ বাবুরা প্রস্তুতি নেন।

নির্ধারিত দিনে রঙপুর থেকে দুজন উকিল এই কার্যে সহয়তা করতে আসেন। একজনের নাম সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী। এজলাস লোকারণ্য, তিন-চার জন সাক্ষীর জবানবন্দী, জেরা ও বক্তৃতা শেষ হলে, ক্ষুদিরামের উপর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হইল।

আদেশ শুনে ক্ষুদিরাম জজকে বলএছিল, ‘একটা কাগজ আর পেনসিল দিন, আমি বোমার চেহারাটা আঁকিয়া দেখাই। অনেকেরই ধারণাই নাই ওই বস্তুটি দেখিতে কিরকম’। জজ ক্ষুদিরামের এ অনুরোধ রক্ষা করেননি। বিরক্ত হয়ে ক্ষুদিরাম পাশে দাঁড়ানো কনস্টেবলকে ধাক্কা দিয়ে বলেছিল, ‘চলো বাইরে’।

এরপর তাঁরা হাইকোর্টে আপিল করেন। ক্ষীণ আশা ছিল, যদি মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাব্বজীবন কারাদণ্ড হয়। জেলে তাকে এ প্রস্তাব করতেই সে অসম্মতি জানায়, বলছিল ‘চিরজীবন জেলে থাকার চেয়ে মৃত্যু ভালো’।

উকিল কালিদাস বোঝান, দেশে এমন ঘটনা ঘটিতেও পারে যে তার বেশিদিন জেলে থাকতে নাও হতে পারে। অবশেষে সে সম্মত হয়। কলকাতা হাইকোর্টের আপিলে প্রবীন উকিল শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র নাথ বসু হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা দেন। কিন্তু ফাঁসীর হুকুম বহাল থাকে। ১১ আগস্ট ফাঁসির দিন ধার্য হয়।

তারপরে আর বাকি কি থাকে। কিন্তু বালকের সাহস……

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।