পূজা মণ্ডলঃ হায়দ্রাবাদে প্রাণ পেতে চলেছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে তৈরি ভবতারিণীর মন্দির। মন্দির তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন হায়দ্রাবাদের বাঙালিরাই। এবার রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে অভিনব উদ্যোগ নিলেন হায়দ্রাবাদের সেই বাঙালিরাই। দক্ষিণ ভারত জুড়ে দেখা দেওয়া জল সংকটে এগিয়ে এলেন হায়দ্রাবাদের বাঙালি স্বর্ণকাররা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা হতে চলা মন্দিরের বিগ্রহের নামে চরণামৃতের বদলে পানীয় জল বিতরণ করলেন তারা। প্রায় ১৫ হাজার গ্রামবাসী এসে মাথায় করে নিয়ে গেলেন মায়ের আশীর্বাদ। বারি সংকটে তাই মা ভবতারিণী হলেন ‘বারিপূর্ণা’।

দক্ষিণ ভারত জুড়ে বেড়ে চলেছে জল সংকট। ধীরে ধীরে তা গ্রাস করতে চলেছে সমগ্র ভারতকে। এই সময় সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে এলেন হায়দ্রাবাদের বাঙালি স্বর্ণকাররা। এদিন হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে নারকুরা গ্রামে প্রতিষ্ঠা হতে চলা মন্দিরে চরণামৃতের বদলে আশ মিটিয়ে পানীয় পান করলেন দুরদুরান্ত থেকে আসা গ্রামের মানুষ। সেই সঙ্গে চাহিদা মত ঝুলি ভরে নিয়ে গেলেন পানীয় জল। উল্লেখ্য, দক্ষিণেশ্বরে ভব তারিণী মায়ের মন্দিরের আদলে এই মন্দির নির্মিত হয়েছে। মন্দিরে ভবতারিণী মায়ের বিগ্রহের আদলেই রয়েছে বিগ্রহ।

হায়দ্রাবাদের নারকুরা গ্রামে প্রতিষ্ঠা হতে চলা এই মন্দিরের নাম হায়দ্রাবাদ বেঙ্গলি স্বর্ণশিল্পী বিবেকানন্দ কালী মন্দির। এদিন মন্দির কমিটির কর্ণধার অমর কুমার ঘোষ kolkata 24×7 কে বলেন, “৮ বছর আগে আজকের দিনে অর্থাৎ রথযাত্রার দিন মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়। তারপর মন্দির বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে মন্দির বানানোর কাজ শেষ। কিন্তু প্রতিষ্ঠা এখনও হয় নি। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি মন্দিরে মায়ের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। প্রত্যেক বছর বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচী নেওয়া হয়ে আসছে এই শুভ দিন উপলক্ষ্যে। এদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টে পর্যন্ত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের বই-খাতা-স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়। খাওয়া দাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য শিবিরেরও আয়োজন করা হয়েছে। ক্ষুদে শিল্পিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। সর্বোপরি মন্দির প্রাঙ্গনে নিয়ে এদিন মানুষজনকে নিয়ে আসার জন্য বিনা পয়সায় বাস পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।

সারা বছর ধরেই এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকে। দাতব্য চিকিৎসালয় আছে রয়েছে আমাদের উদ্যোগে। সেখানে প্রতি বৃহস্পতিবার দুঃস্থদের চিকিৎসা করা হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধও তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। ২৪ ঘণ্টা রক্ত দেওয়ার বন্দোবস্তও করা হয়। ক্যানসারের রোগীদের সাহায্য করা হয়।”