হাওড়া: কিছুদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান গ্রামীণ হাওড়ার আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি খায়রুল হক। তাঁর জায়গায় আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতির দায়িত্ব নিলেন দেলুয়ার হোসেন মিদ্যা।

বছর চৌত্রিশের দেলুয়ার এবারই প্রথম ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান অঞ্চল থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।তারপর তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।চিৎনান গ্রামের বাসিন্দা দেলুয়ার হোসেন মিদ্যা জানান, ‘এই নির্বাচন দুঃখ ও বেদনার। তবুও সংবিধান অনুযায়ী করতেই হবে।আমি পঞ্চায়েত সমিতির কাজ করতে ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

প্রসঙ্গত জুলাই মাসেই ২১এর জন্য ঘর গোছাতে দলে একাধিক বদল আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। অন্যতম ছিল হাওড়া। হাওড়ার রদবদল চমকে দেয় অনেককেই। মন্ত্রী তথা জেলার রাজনীতির হেভিওয়েট অরূপ রায়কে সরিয়ে দেওয়া হয় জেলা সভাপতি পদ থেকে। তাঁকে চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে। নতুন সভাপতি হয় আর এক মন্ত্রী তথা তরুণ মুখ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোঅর্ডিনেটর করে একটি অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। হুগলি জেলার সভাপতি দিলীপ যাদব, চেয়ারপার্সন রত্না নাগ।

দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানকেই রেখে দেওয়া হয়। তবে সুব্রত সাহাকে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়। নদিয়াকে আগে দুটো সাংগঠনিক জেলায় ভেঙে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর। এ বারের রদবদলে ওই দুই ভাগকে আবার জুড়ে দেওয়া হয়। এত দিন কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব যিনি সামলাচ্ছিলেন, সেই সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে জেলা সভাপতি করা হয়।

চেয়ারম্যান করা হয় মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে। বীরভূম জেলায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। সেখানে অনুব্রতকে সভাপতি পদে পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলা কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। অনুব্রতর ঘনিষ্ঠতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন যে অভিজিৎ সিংহ, তাঁকে সহ-সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে কোঅর্ডিনেটর করা হয়।

বাঁকুড়ার চেয়ারম্যান হন শুভাসিস বটব্যাল, সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। ঝাড়গ্রামের সভানেত্রী পদ থেকে বীরবাহা সরেনকে সরিয়ে চেয়ারপার্সন করা হন। নতুন সভাপতি দুলাল মুর্মু। পশ্চিম বর্ধমানে চেয়ারম্যান মলয় ঘটক, সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি, পূর্ব বর্ধমানে চেয়ারপার্সন মুমতাজ সঙ্ঘমিতা, সভাপতি স্বপন দেবনাথ, পশ্চিম মেদিনীপুরে চেয়ারম্যান দীনেন রায়, সভাপতি অজিত মাইতি। পূর্ব মেদিনীপুরে অবশ্য চেয়ারম্যান এবং সভাপতি দুই পদেই শিশির অধিকারী

কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক রদবদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সভাপতির পদও দেওয়া হয়। কোঅর্ডিনেটর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অতীন ঘোষ, জীবন সাহা। দক্ষিণ কলকাতার চেয়ারম্যান করা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। সভাপতি দেবাশিস কুমার। কোঅর্ডিনেটর রত্না শূর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেই রেখে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি পদে শুভাশিস চক্রবর্তীই রয়েছেন। চেয়ারম্যান করা হয় সিএম জাটুয়াকে।

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I