প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ক্রিমিন্যাল কেসে অভিযুক্ত কাউকে মর্যাদাপূর্ণ কোনও পুরস্কার অথবা সম্মান প্রদানের মাধ্যমে কি পশ্চিমবঙ্গের মান বৃদ্ধি পায় অথবা রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়? এমনই প্রশ্ন উত্থাপন করে এ বার পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে খোলা চিঠি পাঠালেন ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিজনরা৷image.01image.02image.03

‘মানুষ মারার শিল্প চাই না’৷ ২০১২-য় এমন মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর ওই ধরনের মন্তব্য উল্লেখ করেও বিতর্ক এ বার উসকে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে৷ একই সঙ্গে, আমরি-কাণ্ডে মৃতদের পরিজনদের সংগঠন, আমরি ফায়ার ভিকটিম অ্যাসোসিয়েশনের ওই চিঠিতে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে: এ ভাবে সম্মান জ্ঞাপনের মাধ্যমে যেমন আইনের খপ্পর থেকে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন কোনও অভিযুক্ত৷ তেমনই, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি অত্যন্ত আপত্তিকর৷

অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে ওই খোলা চিঠি দেওয়ার সূত্রপাত হয়েছে শিল্পপতি আর এস আগরওয়াল এবং আর এস গোয়েঙ্কাকে পুরস্কার প্রদানকে কেন্দ্র করে৷ ওই দুই জনকে যুগ্মভাবে প্রদান করা হয়েছে চতুর্থ ইটি বেঙ্গল লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড৷ গত ২৩ জানুয়ারি কলকাতার পাঁচতারা এক হোটেলে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর হাত থেকে ওই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন আর এস আগরওয়াল এবং আর এস গোয়েঙ্কা৷ আমরি ফায়ার ভিকটিম অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ওই খোলা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে এমনই জানানো হয়েছে, এ ভাবে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে এমন বার্তাও প্রকাশ পায় যে, সম্মান প্রাপকেরা সফল ব্যক্তিত্ব৷

আমরি হাসপাতালের মৃতদের পরিজনরা ওই খোলা চিঠিতে এমন জানানো হয়েছে, পুরস্কার প্রাপক ওই দুই জন আমরি হাসপাতালের মালিকপক্ষ৷ এবং, ২০১১-র আট ডিসেম্বরের গভীর রাতে (ঘড়ির কাঁটায় তখন নয় ডিসেম্বর) ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালের অ্যানেক্স-এক বিল্ডিংয়ের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে তাঁরা হারিয়েছেন প্রিয়জনদের৷ ওই অগ্নিকাণ্ড সেখানকার তৃতীয় ঘটনা৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন মন্তব্য করেছিলেন, ‘মানুষ মারার শিল্প চাই না’৷ অথচ, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র যেভাবে কলকাতা পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী অভিযুক্ত ওই দুই শিল্পপতিকে সম্মান প্রদান করেছেন, তাতে তাঁরা একই সঙ্গে বিস্মিত এবং মর্মাহত৷ কারণ, তাঁরা মনে করেন, ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়ানো যেত৷

ওই ঘটনায় ৯১ জন রোগী এবং দুই জন নার্স সহ ৯৩ জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল৷ ওই চিঠিতে এমন জানানো হয়েছে, অগ্নিসুরক্ষার বিষয়টি লঙ্ঘন করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ যে কারণে, আমরি হাসপাতালের মৃতদের পরিজনরা মনে করেন, ঢাকুরিয়ার ওই হাসপাতালের ওই অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ঘটনা নয়৷ ওই ঘটনা মানুষের তৈরি বিপর্যয়৷ কেন? কারণ হিসেবে তাঁরা মনে করেন, অগ্নিসুরক্ষা এবং হাসপাতালের গুণগত মান রক্ষায় অবহেলা করেছিল সেখানকার কর্তৃপক্ষ৷ ওই হাসপাতালে অতীতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি সেখানকার কর্তৃপক্ষ৷ যে কারণে, ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবেই মনে করেন আমরি হাসপাতালের মৃতদের পরিজনরা৷

রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো আমরি হাসপাতালের মৃতদের পরিজনদের ওই খোলা চিঠিতে এমন জানানো হয়েছে, তাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন৷ অসহনীয় ওই দুঃস্বপ্ন তাঁরা ভুলে যেতে পারেন না৷ তাঁরা চান, এই ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়৷ এবং, তাঁরা বিচার চান৷

_________________________________________________________________

আরও খবর:
(০১) বিবাহিত বলে আমরি-কাণ্ডে চাকরি মিলছে না ৬ জনের
(০২) সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন আমরির মৃতদের পরিজনরা
(০৩) ঘরে-বাইরে রাজনীতি-অসহিষ্ণুতার আমিরি উপাখ্যান
(০৪) রাজনীতির শিকারে বহিষ্কৃত তিন ইন্টার্ন সহ এক পড়ুয়া!
(০৫) বাঙালি বলে নেতাজিকে হতে দেওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রী!!
(০৬) সোনালি দিনের সোনাগাছি এখন মন্দ সময়ের উপাখ্যান
(০৭) ডাক্তারদের এসএমএস ‘যুদ্ধে’ প্রাণনাশ আর গ্রেফতার!
(০৮) অগণতান্ত্রিক-দুর্নীতিগ্রস্ত বিজেপি ঘুঘুর বাসা: দুধকুমার
(০৯) কড়া শাস্তির সম্মুখীন হচ্ছেন এ বার বাংলার ‘ডাক্তার’রা
(১০) ক্লাস নাইনের পড়ুয়াও ভাড়ায় খোঁজে সোনাগাছির ঘর!
(১১) গান্ধীবাদের জেরে বহু পুরুষ জানেন না সেক্স-ফোরপ্লে!
(১২) তসলিমা আদর পাননি বলে বঙ্গ-কমিউনিস্টরা ফেক!
(১৩) তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত ফেক ডাক্তারের জেল হেফাজত
(১৪) পথ-প্রান্তিক শিশুদের জন্য কলকাতায় এখন টয় ব্যাংক
(১৫) বি.এ.-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রীও সোনাগাছির যৌনকর্মী!

_________________________________________________________________