সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: কোনদিকে যাবে মানুষ? হাতে টাকা নেই। মাথায় ছাদ নিয়েছে আমফান। চিন্তাতে রেখে দিয়েছে করোনা। নয়া সমস্যা সবজির দাম। আমফানের প্রভাব যে সবজি বাজারে এত দ্রুত পড়বে ভাবতে পারেনি রাজ্যের মানুষ। প্রত্যেক সবজির ক্ষেত্রে অন্তত ২০ টাকা দাম বেড়েছে পাইকারি বাজারে। মানুষ জানে এই দাম অযাচিত। কিন্তু যাবেই বা কোথায়? সব বাজারই বন্ধ। উপরি পকেট কাটছে আমফান।

আমফানের জেরে হাওড়া থেকে কলকাতা সর্বত্রই গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ। বহু জায়গাতেই জল জমে রয়েছে। ফলে যে সব সবজি বিক্রেতারা ট্রলি নিয়ে পাড়ায়, পাড়ায় বিক্রি করছিলেন তারাও কয়েকদিন আসতে পারেননি। লাভ তোলার জেরে সমস্যায় মধ্যবিত্তের পকেট।

হাওড়া কদমতলার বাসিন্দা নৃপেন ঘোষ। তিনি জানালেন, ‘কাঁচকলা প্রতি কলা অনুযায়ী দাম হয় , লেবু বিক্রি হয় ওই একইভাবে। বেগুন যে দুটো দশটাকা নিয়ে নেবে ভাবতে পারিনি। প্রথমে ভাবলাম ভুল শুনছি। হয়তো ২০০ গ্রাম ১০ টাকা, ওই ৫০ টাকা কিলো। ভুল শুধরে পকেট কেটে নিয়ে গেল।’ ‘এই কাঠফাটা গরমে পটল নাকি ৬০ টাকা কিলো। গায়ে লাগে না, বলুন’, জানালেন সন্দীপ মাইতি।

ঢেঁড়শ ও ৫০ টাকা কিলো। ততোধিক বেশি দাম মাংসের। মুরগির মাংস ২৫০ টাকা কেজি। পাঁঠা তো পকেট নয়, গলা কাটা দাম ৯০০ টাকা কিলো। তাই রবিবারেও অনেকে মাছের দিকে ঝুঁকলেন। কিন্তু এতে ঝুঁকি বেড়েছে বই কমেনি। দাসনগরের বাসিন্দা সুশান্তবাবুর কথায়, ‘বাটা মাছ ৩০০ টাকা কেজি! শুনেই চমকে গিয়েছি। কোনওমতে একটু রুই মাছ নিয়ে বাড়ি এলাম। পকেট ফাঁকা।

সৈয়দ মাকসুদ হাওড়া মাছ বাজার সংগঠনের সম্পাদক। জানালেন, ‘সাপ্লাই কম, অনেক জায়গা ডুবে গিয়েছে। মাছ কম আসছে। দাম বেশি’। রাজ্য বাজার টাস্ক ফোর্সর এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ‘সবজির জমি বিশাল ক্ষতি হয়েছে। একটু দাম বেড়েছে। আমাদের নজর রয়েছে। দাম মাত্রাতিরিক্ত হলে আমাদের ময়দানে নামতে হবে’।

কৃষক কী দাম পাচ্ছে? সে উত্তর মিলছে না। কারণ কৃষকের জমি থাকলে তবে না সে সবজি দেবে। তবে না বিক্রি করে একটু দাম পাবে। জল নামলেও সেই ফরের দল তো আছেই। যতই সরকারের সরাসরি সবজি বিক্রির স্থান থাক। ফরের দল সব সময়েই চাষীদের ভাত মারতে প্ৰস্তুত থাকে। তারা এখন সাধারণ মানুষের পকেট কেটে মুনাফা লুটছে পরে দুদিক থেকে লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানাচ্ছেন নারায়ণ নায়েক নামের এক কৃষক।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV