খুলনা: আর ভয়ঙ্কর শক্তি নেই। গতি কমছে। ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব দেখিয়ে বাংলাদেশে ঢোকা আমফান এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত। এর ফলে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের তিনটি উপকূলীয় বিভাগ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামে।

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ। সেখানকার তিনটি জেলা উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের জনজীবন তছনছ। কলকাতা লণ্ডভণ্ড।পশ্চিমবঙ্গে মৃতের সংখ্যা ১০-১২ জন।

এদিকে বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামের উপকূলীয় জেলা-উপজেলাতেও জনজীবন বিদ্ধস্ত। মৃতের সংখ্যা ৭ ছাড়িয়েছ। আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় আমফান দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হয়ে যাবে।

দুর্বল হওয়ার কারণে কমানো হয়েছে বিপদ সংকেত। আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। তবে এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় জলমগ্ন বহু এলাকা। সাগর উত্তাল।

আমফান শক্তি হারালেও, ঘূর্ণিঝড়র কারণে জলোচ্ছ্বাসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। আরও বলা হয়েছে, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৬ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

জলোচ্ছ্বাসের কারণে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামে এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলে জারি সতর্কতা।

এই সব এলাকায় বহু জনপদ জলমগ্ন। ভেঙেছে বহু বাড়ি। বিদ্যৎহীন এলাকা।