তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: করোনা সতর্কতায় দেশ জুড়ে লকডাউন। আর সেই লক ডাউনের চতুর্থ পর্যায়ের মধ্যে আমরা যখন চলেছি, ঠিক তখনই চলতি সপ্তাহের প্রায় মাঝামাঝিতে ‘আমফানে’র প্রবেশ ঘটতে চলেছে।

যা আছড়ে পড়তে চলেছে এরাজ্যের দীঘা সমুদ্র উপকূলে। আমফানের প্রভাব বাঁকুড়ায় পড়ার তেমন সম্ভাবনা না থাকলেও বুধবার ভোর থেকে ঝোড়ো হাওয়া আর ব্যপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় কেমন আছেন ভীনরাজ্য থেকে বাড়ি ফেরা ‘পরিযায়ী শ্রমিক’রা। তা দেখতেই এই দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম সিমলাপালের লক্ষীসাগর গ্রামে।

ওড়িশার বালেশ্বরে একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কর্মরত এই গ্রামের কয়েক জন শ্রমিক লকডাউনের মধ্যেই গত কয়েক দিন আগে দীর্ঘ পথ সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

একদিকে বাড়িতে আলাদা থাকার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, অন্যদিকে সরকারী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ঠাঁই না পাওয়া এই মানুষ গুলি গ্রামের মাঠে ত্রিপলের অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে দিনযাপন করছেন। বাড়ির লোক সময় মতো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন এখানেই। কিন্তু আমফানের হাত ধরে আসা বৃষ্টিতে চরম দূর্দশায় পড়েছেন এই প্রান্তিক মানুষ গুলি।

তাঁদের কথায়, ঝড় জলের মধ্যে অসহায় অবস্থাতে তাদের এই অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। গত রাতে ঝড়ের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে তাঁবুর ত্রিপলের একাংশ উড়িয়ে নিয়ে চলে গেছে। ফলে এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বৃষ্টিতে ভীজেই কাটাতে হয়েছে ও হচ্ছে।

প্রশাসনিক অসহযোগীতার অভিযোগ তুলেছেন ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য থেকে গ্রামবাসীদের একাংশ। গ্রামবাসী জীবন দালাল, অশ্বিনী লোহাররা বলেন, অন্যসময় এই ঝোপঝাড় পূর্ণ এলাকাতে দিনের বেলাতেই আসতে আমরা ভয় পাই। কিন্তু কিছু করার নেই, মন না চাইলেও এখানেই অস্থায়ী তাঁবু খাঁটিয়ে এদের এখানে রাখতে হয়েছে। হাতে গোনা এই ক’জন ওড়িশা ফেরৎ গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিককে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখার আবেদন জানালেও কোনও কাজ হয়নি বলেই তাদের অভিযোগ।