বেহরুট: লেবাননের রাজধানী বেহরুটে মঙ্গলবার যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে তার কারণ হলো ওই গুদামটিতে বিপুল পরিমাণে মজুদ ছিল রাসায়নিক পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানাচ্ছে বিবিসি নিউজ বাংলা।ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল প্রথম বিস্ফোরণের ফলে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে। শহরে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই বিস্ফোরণের ভিডিও তুলেছিল।

এর ঠিক পরেই লোকের চোখের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। যাতে প্রথমে বিশাল আগুনের গোলা দেখা যায় এবং তারপর বাতাসের ঝাপটায় অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো আকারে জল ও বাষ্পের সাদা মেঘের ধোয়া উঠতে উঠতে মিলিয়ে যায়। তারপরই লাল রংয়ের ধোঁয়ার কুণ্ডলী কেমন যেন পাক খেতে খেতে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ঘটে যায়। আর শেষে ওঠা ওই লাল ধোয়া থেকে বুঝতে পারা যায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরণ হয়েছে।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট হলো এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা প্রধানত সার উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে ও কলকারখানায় এই রাসায়নিকটি কাজে লাগে। তাছাড়া খনিতে যে বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয় তার অন্যতম উপাদান হলো এটি। তবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিশেষত্ব হলো‌ এটি নিজে বিস্ফোরক পদার্থ নয় তবে বিশেষ কিছু অবস্থায় বিস্ফোরকে পরিণত হয়ে যায়, বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা ফিলিপ ইনগ্রাম। এই রাসায়নিককে বরং বলা হয় ‘অক্সিডাইজার’, যা আগুনে আরো বেশি করে অক্সিজেন টেনে আনে এবং আগুন আরও বেশি করে জ্বলে ওঠে।

এদিকে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক গ্যাব্রিয়েল ডি সিলভা ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছেন, দুম করে অ্যামোনিয়া নাইট্রেটে আগুন ধরানো‌ অথবা একটা বিস্ফোরক ঘটানো বেশ কঠিন। পাশাপাশি ডি সিলভা জানিয়েছেন, তবে তেল বা ওই জাতীয় কিছু সংস্পর্শে কোনও ভাবে অ্যামোনিয়া নাইট্রেট দূষিত হয়ে গেলে তখন সেটা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। আর তারপর আগুনের সংস্পর্শে এলে এটি অত্যন্ত সক্রিয় বিস্ফোরক হিসেবে কাজ করে। আর বিস্ফোরিত হলে তখন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়ার মত বিষাক্ত গ্যাস বের হতে থাকে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও