তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বহু চর্চিত নারদা ইস্যুতে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও সংবাদমাধ্যমের একাংশকে এক হাত নিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী অমিয় পাত্র৷

তিনি বলেন, ‘‘কেউ কেউ দাবি করছেন ২০০৯ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার পরেও তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় দু’শো বার বাঁকুড়ায় এসেছেন। খবরের কাগজগুলি তা ফলাও করে ছাপছে। দাবি সত্য নয়। বাঁকুড়ার মাটিতে ওনাকে এখানকার মানুষ দেখেননি। টিভিতে নারদার টাকা নেওয়ার ছবি অন্তত দু’শো বার দেখেছেন এখানকার মানুষ। খবরের কাগজ ওয়ালাদের সত্যি বলার সাহস নেই।’’

বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার রানীবাঁধে দলের জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন মাহাতোর উপর দুষ্কৃতী হামলার প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। সেখানে এক পথ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সময়ে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মেরুদণ্ড এতোটাই দুর্বল যে তৃণমূল প্রার্থীর নারদাকাণ্ড নিয়ে আমাদের বক্তব্য সতর্কভাবেই এড়িয়ে যাচ্ছে।’’

এদিন তিনি বিজেপিকেও তুলোধোনা করেন। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পাঁচ বছরের শাসনকালে মানুষ আচ্ছে দিনের স্বাদ পেয়েছেন কি বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ বলেন, এরা ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় বিজেপি শাসিত ত্রিপুরাতেও ভোট লুঠ হয়েছে। ‘তৃণমূল চোর হলে বিজেপি ডাকাত’ বলেও এদিন তিনি দাবি করেন।

বুধবার সারেঙ্গার বড় গাড়রার পর এদিন রানীবাঁধেও ‘মাওবাদী-তৃণমূল যোগ’ ইস্যুতে নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন বর্ষীয়ান এই সিপিএম নেতা। তিনি বলেন, মাওবাদী সন্ত্রাসের সময়কালে যারা মুখে গামছা বেঁধে মানুষ খুন করেছে, এখন তারাই মুখের গামছা খুলে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরেছে।

এপ্রসঙ্গে প্রাক্তন মাওবাদী নেত্রী সুচিত্রা মাহাতোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এক সময়ের ওই মাওনেত্রী ১২ জন ব্ল্যাক ক্যাট ফোর্স নিয়ে মোজাইক করা বাড়িতে বহাল তবিয়তে আছেন। আর যারা ওই মাওবাদীদের হাতে খুন হয়েছেন, এখনও নিখোঁজ আছেন তাদের পরিবারের কেউ কোন সরকারি সাহায্য পাননি বলে তিনি দাবি করেন।

এদিনের মিছিল ও পথ সভায় অমিয় পাত্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএম বাঁকুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক অজিত পতি, জেলা কমিটির সদস্য পার্থ প্রতিম মজুমদার প্রমুখ।