স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কৃষি বিলের প্রতিবাদে বাংলা থেকে দিল্লি, বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপিকে কৃষক-বিরোধী প্রমাণ করাই এখন তাঁদের লক্ষ্য। তৃণমূলের এই কৌশল রুখতে হাফ ডজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বাংলায় পাঠাচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে রাজ্য নেতাদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা হলেন স্মৃতি ইরানি, পীযূষ গোয়েল, নরেন্দ্র তোমার, ধর্মেন্দ্র প্রধান, কিরণ রিজিজু ও প্রহ্লাদ প্যাটেল।

কৃষি বিল নিয়ে তুমুল আপত্তি ছিল বিরোধীদের। তাদের তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই রবিবার রাজ্যসভায় পাস হয়েছে কৃষি বিল। কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সেদিন রাজ্যসভায় নজিরবিহীন গন্ডগোল হয়। ডেপুটি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাদানুবাদ, মাইক ভাঙা ও বিল ছেঁড়ায় লিপ্ত হন বিরোধী সাংসদরা।

পরে তৃণমূলের দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েন সহ আটজনকে সাসপেন্ড করা হয় রাজ্যসভা থেকে। তারপর থেকেই বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। দিল্লিতে যেমন তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছেন ডেরেক ও ব্রায়েন, রাজ্যে সুর চড়াচ্ছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভুঁইফোড়-জোতদারদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র। চাষিদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।” কেন্দ্রকে ‘মজুতদার’, ‘কালোবাজারির সরকার’ বলে কটাক্ষ করে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “দেশে এবার খাদ্যের দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে।” কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি তাঁর প্রশ্ন, “চাষিদের জন্য কী করেছেন?

মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের মহিলা সংগঠ মঙ্গলবার মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না-অবস্থানে বসে। পর দিন, বুধবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ শহরে মিছিল করে মেয়ো রোডেই প্রতিবাদ সভা করে।

কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে তৃণমূল ‘বিভ্রান্ত’ করছে বিরোধীরা। এই অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রচারে নামার কথা আগেই জানিয়ে ছিল বঙ্গ বিজেপি।জেলা থেকে বুথ পর্যন্ত প্রচার করা হবে বলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ছিল, ‘‘কৃষি বিল নিয়ে মিথ্যা প্রচার করে বিরোধীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এই বিলের ফলে আসলে কী ভাবে কৃষক উপকৃত হবেন, জেলা থেকে বুথ পর্যন্ত প্রচার করে আমরা সেই সত্য তুলে ধরব।’’

এই ছয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এলে তাঁদের পাল্টা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। তারউপর, কালীপুজো মিটলেই অমিত শাহ এবং জে পি নাড্ডাও প্রচারে আসবেন বলে খবর। ফলে একুশের ভোটের আগে নিজেদের গা থেকে কৃষক বিরোধী তকমা মুছতে এবং তৃণমূলকে ভুল প্রমাণ করতে বিজেপি যে সব রকমভাবে চেষ্টা করছে তা বলাই বাহুল্য।

এদিকে, ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামতে চলেছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন। ওইদিন এ রাজ্যে বিভিন্ন অংশের মানুষ ও সংগঠনকে নিয়ে ২৫ তারিখ ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত যে মিছিলের ডাক দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি, তার সঙ্গে বাম নেতৃত্ব পা মেলাবেন বলে জানিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু।

এছাড়া কংগ্রেসও জেলা পর্যায় থেকে আন্দোলন শুরু করছে। দেশজুড়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করছে তারা। প্রায় ২ কোটি কৃষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জনহরলাল নেহরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বর তুলে দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাতে। তাই শুধু তৃণমূল নয়, বাম-কংগ্রেসকে রোখাও বিজেপির কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।