ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্যে দুটি সভা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ কালিম্পংয়ে দার্জিংলিং লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রাজু বিস্তের হয়ে প্রচার সভা করবেন অমিত৷ এরপর রায়গঞ্জে বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরির সমর্থনে প্রচার সভা করবেন তিনি৷ রাজ্যে একই দিনে ডুয়েলের আগে বুধবারই রায়গঞ্জের করণদিঘিতে সভা করবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ বিজেপি এবং কংগ্রেস শিবিরের সভাপতিরা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই তর্কযুদ্ধে নামবেন৷

কিছুদিন আগেই আলিপুরদুয়ারে জনসভা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করেছিলেন৷ উত্তরবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহ যখন সভা করবেন ওই সময় কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে নির্বাচন হবে৷ ওই নির্বাচনে তৃণমূলকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিজেপি৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ওই এলাকাগুলিতে ভালো ফল করেছে৷ তৃণমূলও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারিকে কোচবিহারে প্রার্থী করেছে৷ আলিপুরদুয়ারে জয়ী সাংসদ দশরথ তিরকেই আবার লড়াই করবেন৷

রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহ কালিম্পংয়ে গোর্খা জনগোষ্ঠীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বার্তা দেবেন৷ অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস জোট না হওয়ায় রায়গঞ্জে বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরির কপাল খুলতে পারে বলে মনে করছে অনেক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ৷ অমিতের প্রচার বিজেপিকে রায়গঞ্জে শক্ত জায়গায় রাখবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা৷

গোর্খাদের পাশে আছে বিজেপি৷ কিছুদিন আগেই বলে গিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ দলের সভাপতি যা বলেছেন, সেকথাই জলপাইগুড়িতে জনসভায় আবার বলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তবে পাশে থাকার বার্তা দিলেও গোর্খাদের কোনও বিশেষ দাবির বিষয়ে কিছুই বলেননি প্রধানমন্ত্রী৷ মোদী নিজের বক্তব্যে বলেছেন, ‘‘গোর্খা ভাইদের বলছি আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি৷’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোর্খাদের উপর অত্যাচার করেছে৷ আলিপুরদুয়ারের মঞ্চ থেকে গোর্খাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি৷ অমিতের বক্তব্যই আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন মোদী৷ রাজবংশী জনতাকে উৎসাহিত করেছেন মোদী৷ বলেছেন, রাজবংশীদের উন্নয়নের জন্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন৷ এরপর জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি প্রশ্নে মোদী বলেছেন, অনেকেই এনআরসি নিয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছেন৷ গোর্খাদের এনআরসি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই৷ গোর্খা ভাইদের কোনও লোকসান হতে দেব না৷ তবে যারা শরণার্থী তারা কংগ্রেস সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ভুক্তভোগী৷ তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷