বিড়লা সভাগৃহে অমিত শাহ। ছবি-মিতুল দাস

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা ভোট এখনও বেশ কয়েকমাস বাকি৷ কিন্তু তারই আগে বুধবার দিল্লি থেকে কলকাতায় উড়ে এসে কার্যত লোকসভা ভোটের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ মিটিং, মিছিল, জনসভা, বাড়ি বাড়ি প্রচারের পাশাপাশি আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে অন্তত এরাজ্যে সোশ্যাল মিডিয়াকে যে বিজেপি প্রচারের প্রধান হাতিয়ার করতে চলছে এদিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অমিত৷

ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল সাইটকে কিভাবে প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে বুধবার বিকেলে সেবিষয়ে হাওড়ার শরৎসদনে দলীয় নেতা-কর্মীদের টানা ১ ঘণ্টা ক্লাস নিলেন বিজেপির ‘অমিত স্যার’৷ ওই সভায় হাজির ছিলেন বিজেপির আইটি সেলের কর্মীরা৷ তথ্যপ্রয়ুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরাও কর্মীদের ওয়াকিবহাল করেন৷ ছিলেন মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয়র মতো এরাজ্যের প্রথমসারির বিজেপি নেতারা৷

ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল সাইটকে কিভাবে প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে বিজেপি? রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল৷ তবে দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে অমিত শাহ কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি পরিবারের কারও না কারও হাতে স্মার্ট ফোন আছে অর্থাৎ ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে৷ ফলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল সাইটগুলির মাধ্যমে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে কেন্দ্রের উন্নয়ন মুলক কাজ, বিভিন্ন যোজনার সুফলের তথ্য৷

শুধু কেন্দ্রের উন্নয়ন মূলক প্রকল্প নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কি কি উন্নয়ন মূলক কাজ হয়ছে, তাও তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি৷ বলেছেন, ‘‘ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ওপর জোর দিন৷ গ্রামাঞ্চলে অনেকের কাছেই স্মার্ট ফোন রয়েছে, কিন্তু তাঁরা ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার জানেন না৷

আপনাদের দায়িত্ব বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের এবিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সাবলীল করে তোলা৷’’ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘বাংলার গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ হিন্দি বোঝেন না৷ তাই বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে গিয়ে বাংলা ভাষাতে জোর দিতে হবে৷ বাংলাতেই কথা বলতে হবে৷ তাতে অনেক বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে৷’’

বিজেপি নেতারা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে থাকেন, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পকে নিজেদের প্রকল্প বলে প্রচার করে ফায়দা তুলতে চাইছে মমতার সরকার৷ এবিষয়ে অমিতজির পরামর্শ, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্প সম্পর্কে নিজেরা তথ্য সমৃদ্ধ হন৷ তাহলে সহজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভাঁওতাবাজির মুখোশ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে৷’’ পরামর্শ দিয়েছেন, সংবাদ মাধ্যম সঠিক তথ্য পরিবেশন করলে বাহবা দিন৷ কিন্তু যদি সংবাদমাধ্যম তথ্য বিকৃত করে তাহলে ঝগড়া, ঝামেলায় গিয়ে সময় নষ্ট না করে পাল্টা সঠিক তথ্য তুলে ধরুন সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে৷ তাতে মানুষ সত্যিটা জানতে পারবেন৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোশ্যাল সাইটের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া থেকে দু’দিনের ঝটিতি সফরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি যেভাবে ঠাসা কর্মসূচি রেখেছেন তা থেকে স্পষ্ট, আগামী লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক পশ্চিমবঙ্গকেই ‘পাখির চোখ’ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।