কলকাতা: এনআরসি নিয়ে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ২০২১ সালে ক্ষমতার আসার চেষ্টা করছে৷ বাংলায় বিজেপির ক্ষমতা দখলের মূল অ্যাজেন্ডা এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ৷ কিন্তু শুধু মমতাই নয়, এনআরসি নিয়ে অমিত শাহ কটাক্ষের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, বহুজন সমাজপার্টি প্রধান মায়াবতি এবং সমাজবাদি পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও৷

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে এক জনসভায় অমিত বলেন, ‘‘রাহুলবাবা, মায়াবতি, অখিলেশ এনআরসি বিরোধী৷ ওরা চায় না ভারতে এনআরসি হোক৷ কারণ ভোটব্যাংক রয়েছে৷ ওদের চিন্তা এই অনুপ্রবেশকারীরা কোথায় যাবে? কিন্তু চিন্তা করছে না যে সন্ত্রসবাদীরা দেশে যে ধামাকা করছে তাতে কতজন লোক মারা যাচ্চে৷ দেশবাসী সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হচ্ছে৷ ওরা চিন্তা করছে ভোটব্যাংক৷’’ বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে এনআরসি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নিজে বাংলায় জনসভা করতে এসে বলে গিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলায় এনআরসি হবেই৷ সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ড) বিল সংসদে পাশ হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা৷’’

বিজেপির মতে, ভারত ভাগ হয়েছিল ধর্মীয় কারণেই৷ তাই প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা মানুষদের অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থী – এই দুই ভাগে ভাগ করতে চায় বিজেপি৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে একাধিকবার প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন অমিত, সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ড) বিল নিয়ে তাঁর দলের ভূমিকা কী হবে? তিনি কী ওই বিলের বিরোধীতা করবেন? যদিও রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস এই বিলের বিরোধীতা করেছে৷ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, ওই বিল আইন হিসাবে পাশ করা হলে ৬ বছরের জন্য অনেককেই বিদেশি হয়ে যেতে হবে৷

বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্থান থেকে আসা মুসলমানরা যেমন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, অন্যদিকে ওই দুই দেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ বা খ্রীস্টানদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হলেন শরণার্থী৷ ভারতের বিজেপি সরকার, প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেবে৷ কারণ, তাঁরা বিপদের মুখে নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন৷ অন্যদিকে মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে, কারণ সীমান্তের ওপার থেকে রোজগার বা বাসস্থান খুঁজে পেতে, কিংবা কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এদেশে এসেছে৷ অমিত শাহ বলেন,‘‘সারা রাজ্যে (বাংলায়) বাংলাদেশিরা অস্ত্র হাতে ঘুরছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে৷ এ চলতে পারে না৷ অসমের মতই সারা দেশে এনআরসি প্রয়োজন৷’’