স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (জিজেএম) পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে বৃহস্পতিবার দাঁড়াল বিজেপি৷ মোর্চার সভাপতি তথা শীর্ষনেতা বিমল গুরুং এবং সম্পাদক রোশন গিরি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক৷ বেশ কিছু ফৌজদারি মামলায় তারা অভিযুক্ত৷ রাজ্যের পুলিশ ওই নেতাদের খুঁজছে৷

দার্জিলিংয়ের কালিম্পংয়ের ড. গ্রাহামস্ হোমস্ রোনান্ড শ্ পার্কের জনসভা থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সাফ জানান, ‘‘গোর্খানেতাদের দিল্লিতে দেখেছি৷ তাঁদের চোখে দেশভক্তি দেখেছি৷ বিজেপি, মোদীজির সরকার ওই নেতাদের পাশে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে৷’’

বিমল গুরুং বা রোশন গিরির নাম না করলেও গুরুং ঘনিষ্ঠ মোর্চা নেতৃত্ব অমিতের ঘোষণার ফলে কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে৷ কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, পাহাড়ে ফিরতে পারেন বিমল গুরুং৷ ওই খবর শোনার পরই রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল বিমানবন্দর ঘিরে ফেলেন৷ গুরুং ঘনিষ্ট দুই নেতাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়৷

প্রসঙ্গত, এবারে দার্জিলিংয়ের নির্বাচন চিত্তাকর্ষক৷ বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্ত৷ বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করছে বিমল গুরুং নিয়ন্ত্রিত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবং জিএনএলএফ৷ অন্যদিকে বিনয় তামাং নিয়ন্ত্রিত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী অমর সিং রাই৷ তৃণমূল কংগ্রেস অমরকে সমর্থন করেছে৷

ঘাসফুল প্রতীকেই নির্বাচনে লড়াই করবেন অমর৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং গোষ্ঠী বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করছে বলে সরাসরি নির্বাচনে লড়াই করছে না৷ কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ট বিনয় তামাং গোষ্ঠী প্রতীকসহ লড়াই করতে চেয়েও পারছে না৷ কারণ ভারতের নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সম্পাদক রোশন গিরি৷ সেক্ষেত্রে আদালতে মামলা লড়েও গলের প্রতীক হস্তগত করতে পারেনি বিনয়৷ ঘাসফুল প্রতীকেই তার প্রার্থীকে নির্বাচনে লড়াই করতে হচ্ছে৷

অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘‘আগামী দিনে মোদী সরকার ‘গোর্খা উপজাতি’দের ‘উপজাতি’হিসেবে সম্মান দেবে৷ গোর্খাদের থেকে বড় ভারতীয় কারা রয়েছে? দেশের জন্য লড়াই করেছে গোর্খারা৷ তাদেরকে বিদেশী বানাবে কে? মোদী সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আনবে৷ নাগরিকত্ব পাবে শরণার্থী হিন্দুরা৷’’

কিছুদিন আগেই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের বক্তব্যে বলেছেন, ‘‘গোর্খা ভাইদের বলছি আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি৷’’বিজেপি নেতারা দার্জিলিংয়ের প্রচারে সবর হয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোর্খাদের উপর অত্যাচার করেছে৷ পাশাপাশি রাজবংশী জনতাকে উৎসাহিত করেছেন মোদী৷ বলেছেন, বাজবংশীদের উন্নয়নের জন্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন৷

এরপর জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি প্রশ্নে মোদী বলেছিলেন, অনেকেই এনআরসি নিয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছেন৷ গোর্খাদের এনআরসি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই৷ গোর্খা ভাইদের কোনও লোকসান হতে দেব না৷ তবে যারা শরণার্থী তারা কংগ্রেস সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ভুক্তভোগী৷ তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷

নাগরিকত্বের প্রশ্নে অদিন অমিত আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন৷ তিনি বলেন, ’’অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে চিন্তা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বারবার বলছেন অনুপ্রবেশকারিরা কোথায় যাবে, কী খাবে৷ কিন্তু যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের নিয়ে চিন্তা কোই৷ ৬ হাজার মানুষ শরণার্থী কোথায় যাবেন৷ মোদী সরকার হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে৷’’