স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গত ডিসেম্বর মাসে মেয়ো রোডে দাঁড়িয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, ১৯টা রাজ্যের সরকারের কোনও মূল্য নেই, যত ক্ষণ না পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে তিনি যে স্থির সেটা বোঝা গেল মালদহে৷ মঙ্গলবার অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের প্রচার তিনি শুরু করলেন বাংলা থেকেই৷

এদিন বাংলার শিল্প থেকে কৃষি, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থেকে আইনশৃঙ্খলা, সিন্ডিকেট থেকে ডিএ, রথযাত্রা থেকে শরণার্থী – একাধিক ইস্যুকে সামনে এনে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘২০১৯-এর নির্বাচন ভারতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই জরুরি বাংলার জন্যও। তৃণমূল সরকারের গণেশ উলটে দিতে এসেছি।

এখান থেকেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করলাম। এটা গণতন্ত্রের হত্যাকারী তৃণমূল সরকারকে হঠানোর ভোট।’ বাংলায় বিজেপি যে বড় জয় আগামী লোকসভা নির্বাচনে পেতে চলেছে তাও আগাম দাবি করেছেন তিনি।

অমিত শাহের আশ্বাস, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ঘুষ নেওয়া, সিন্ডিকেট বন্ধ হবে। বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না অনুপ্রবেশকারীদের। মহাজোট প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, ‘মহাজোট বলে মোদী হঠাও। আমরা বলি রোগ হঠুক, নিরক্ষরতা হঠুক, বেকারত্ব হঠুক, দারিদ্র্য হঠুক। মমতা দি, পাঁচ-পঁচিশজনকে পাশে নিয়ে হাত মেলালেও মোদীকে হঠানো সহজ হবে না। মহাজোটের সরকার কমজোর হবে। কাজেই দুর্নীতি করা সহজ হবে। আমরা দিতে পারি মজবুত সরকার। ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীদের লাইন লেগে গিয়েছিল।’

কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় নির্বাচনের প্রচার শুরু হঠাৎ বাংলা থেকেই কেন শুরু করলেন অমিত শাহ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য রাজ্যে বিজেপি শাসকের আসন পেলেও বাংলা-ওডিশাতে তারা ক্ষমতার স্বাদ পায়নি৷ কিন্তু এখন বাংলায় তাদের জমি অনেকটাই শক্ত৷ কয়েকবছর আগেও বাংলায় দূরবীন দিয়ে খোঁজা বিজেপি এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের সাফল্য শাসকের মনে ভয় ধরিয়েছে৷ সেইসঙ্গে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল, আদর্শবিচ্যুত এবং এলাকায় তৃণমূলের ভয়ে ভীত বামপন্থী ও কংগ্রেস কর্মীরা তো আছেনই, চমক গিয়ে শাসকদলের নেতারাও গেরুয়া শিবিরের ছাতার তলায় আসছেন৷ এই সবকিছুই রাজ্য তো বটেই দিল্লির নেতাদের মনেও বাংলা দখলের আশা জাগাচ্ছে৷

এছাড়া, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেই সবচেয়ে বেশি মোদী বিরোধীতার স্বর৷ যেটা তিনিই দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে মোদী বিরোধীতায় একজায়গায় আনছেন৷ এবং বিরোধী জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী পদে অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠছে৷ যা বিজেপির জন্য চরম অস্বস্তির৷ তাই মমতার শক্ত ঘাঁটি নড়বড়ে করাই এখন মোদী-শাহর লক্ষ্য৷

তবে এদিন অমিত শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, রাজ্য বিজেপির কোনও নেতাকে সামনে রেখে নয়, নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখেই এ রাজ্যে ভোটে যাবে বিজেপি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প