নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না৷ সারা দেশের , বিশেষত বিরোধী রাজনৈতিক মহলে বলাবলি শুরু হয়েছে তাঁদের নাকি বাতিলের দলে ফেলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ৷ নির্বাচনের মুখে বিতর্ক কিছুটা প্রশমিত করতে অমিত শাহ নিজেই এবার হাজির হলেন লালকৃষ্ণ আদবানি এবং মুরলীমনোহর যোশীর বাড়ি৷

হাতে সংকল্পপত্র – যা লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ এর দিকে তাকিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র৷ দুই নেতাকে এক-এক কপি করে সংকল্পপত্র দিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ চেয়ে নিয়েছেন অমিত৷ দলে বয়স্ক-বৃদ্ধের একঘরে করেছেন মোদী-শাহ, এই বিতর্ক বিজেপিতে অনেকদিন ধরেই চলছে৷ প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী জমানার সৈনিক আদবানি-যোশীর বাড়িতে নিয়ে নির্বাচনের আগে চলতি বিতর্কে জল ঢালতে চেয়েছেন অমিত৷ বিজেপির সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের পর এই সাক্ষাৎপর্বটি সম্পন্নও হয়৷

আদবানির গান্ধীনগর কেন্দ্র থেকে এবার নির্বাচনে লড়াই করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত৷ এই প্রথম লোকসভা নির্বাচনে অমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন৷ অন্যদিকে মুরলীমনোহর যোশীর কানপুর কেন্দ্রে তাঁর বদলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সত্যদেব পাচৌরি৷ এবারের নির্বাচনে আদবানী-যোশী টিকিট না পাননি, কিন্তু দলে গুরুত্ব হারিয়েছিলেন ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগেই৷ সারা দেশেই মোদী-ঝড় এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী৷

২০১৯ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই ওই দুই নেতার রাজনৈতিক কেরিয়ারের পর্দা নেমে আসে৷ এরমধ্যেই নিজের ব্লগে বিস্ফোরক লেখা লিখেছেন লালকৃষ্ণ আডবানী৷ বলেছেন যারা বিজেপি বিরোধী, তারাই দেশবিরোধী নয়৷ মুরলীমনোহর যোশীও কানপুরের ভোটারদের খোলা চিঠি লিখে জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক রামলাল তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বারণ করেছেন ৷ তিনিও কিছু বলার আগেই অমিত চলে গিয়েছেন দুজনের বাড়িতে৷ নির্বাচনের মুখে দুই বরিষ্ঠ নেতৃত্বের বৈপ্লবিক মন্তব্য এড়িয়ে যেতে চেয়েছে দল৷

কিছুদিন আগেই বিজেপি ঘোষণা করেছিল ৭৫ বছরের বেশি বয়স্ক নেতাদের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকিট দেওয়া হবে না৷ সেক্ষেত্রে ওই দুই ‘আইকনিক’নেতার ভাগ্য নির্ধারণ অনেক আগেই হয়ে গিয়েছিল৷