সৌমেন শীল, কলকাতা: বাংলায় এসে ভারতীয় সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের মুখে শোনা গেল কবি নজরুল ইসলামের নাম। বাংলার সার্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলামের নাম ব্যবহার করতে এক প্রকার বাধ্য হলেন বিজেপি-র শীর্ষ নেতা।

পদ্ম শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কখনও বিদ্রোহী কবির নাম ব্যবহার করে বক্তব্য পেশ করেছিলেন কিনা তা বলতে পারছেন না প্রবীণ বিজেপি কর্মীরাও। অদূর কেন সুদূর অতীতেও এই নামটি নেতারা কখনও ব্যবহার হয়নি বলেই দাবি করছেন তাঁরা। বঙ্গ বিজেপি-র নেতাদের মুখেও শোনা যায়নি নজরুল ইসলামের নাম।

শনিবার কলকাতার মেয়ো রোডের সমাবেশে সেই নজরুল ইসলামের নাম শোনা গেল বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের গলায়। কার্যত যা নজিরবিহীন। বিষয়টিকে ঐতিহাসিক বললেও কিছু কম বলা হয় না। কারণ নিন্দা নয়, নজরুল ইসলাম সম্পর্কে প্রশংসার সুর শোনা গিয়েছে অমিত শাহের গলায়।

এদিন দুপুরের দিকে সব বক্তার শেষে বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বক্তব্যের শুরুতেই বাংলার মনিষীদের নাম উল্লেখ করেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস, চৈতন্যদেব, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এদের সকলের মাঝে আরও এক বঙ্গ তনয়ের নাম উল্লেখ করেছিলেন অমিত শাহ। যা হল নজ্রুল ইসলাম।

১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে অবিভক্ত বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কাজি নজরুল ইসলাম ছিলেন সৈনিক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সঙ্গীতজ্ঞ। যদিও তিনি কবি হিসেবেই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর লেখা কবিতায় বিদ্রোহ করেছিলেন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে।

সাধারণত বিজেপি নেতারা এই বাঙালি কবি সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরুল ইসলামকে কটাক্ষ করে পোস্ট করেন বিজেপি করমীরা। সংঘের মতাদর্শ মেনে চলা দলের কর্মীদের থেকে এই আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয় না কারো। কিন্তু সেই দলেরই শীর্ষনেতার মুখে সেই নজরুল ইসলামের নাম খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা নজির হয়ে থাকল।