নয়াদিল্লি: করোনা মোকাবিলায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ শুক্রবার রাতেই মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতিপূরণের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী৷ তারপরই মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে লকডাউন পরিস্থিতি জানতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷

লকডাউন সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী চাইলে আধা-সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারে কেন্দ্র সরকার৷ শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোনে তা আশ্বস্ত করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও৷ এ রাজ্যে লকডাউন ও করোনা প্রাদুর্ভাব দেখার দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে বিদেশমন্ত্রীকে৷ ফোনে দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়েছে৷ মিলেছে সহযোগিতার আশ্বাসও৷ তিনি করোনা মোকাবিলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন৷ শোনা যাচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের ব্যবস্থাপনায় খুশি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷

করোনা মোকাবিলায় সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর আগেই রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রবিবার জনতা কার্ফু’র পরের দিন অর্থাৎ সোমবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্যেশে ভাষণে সারাদেশে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া লকডাউন চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত৷ করোনার মতো মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে মনে করেন চিকিৎসকরা৷ চিন ও জার্মানির থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ভারতেও লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের অসুবিধা হলেও তা মেনে চলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আবেদন জানান৷

কিন্তু অনেকেই লকডাউন বিধি মানছে না-বলে অভিযোগ উঠছে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্টও পাঠিয়েছে অনেক রাজ্যই৷ এই পরিস্থিতিতে মমতাকে ফোন করে লকডাউন পরিস্থিতি জানতে চান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ লকডাউন কার্যকর করতে প্রয়োজনে আধা-সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারে কেন্দ্র৷ সুত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,‘আমরা সবাই জানি করোনার মতো মহামারী মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্র লকডাউন৷ মানুষ লকডাউন না-মানলে প্রয়োজনে আধা-সামরিক বাহিনী নামাতে হবে৷ ইতস্তত না-করে বললেন৷’

রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন৷ এদিন নতুন করে পাঁচ জনের শরীরের করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে৷ এরা নদিয়ার তেহট্টের একই পরিবারের সদস্য৷ এই পরিবারের বাকি তিন সদস্যেরও করোনা টেস্ট হয়৷ কিন্তু তিনজনের শরীরে পজিটিভ পাওয়া যায়নি৷ তবে তাদের ফের পরীক্ষা হবে বলে স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে৷ এঁদের প্রত্যেককেই শনিবার কলকাতায় আনা হচ্ছে৷ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তে একজনের মৃত্যু হয়েছে৷