নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে থাকতে বাংলার সাংসদদের আবেদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। সংবিধান মেনেই নাগরকিত্ব সংশোধনী বিল পেশ বলে দাবি শাহের। আজ সোমবার লোকসভায় বিল পেশ হতেই তুমুল হট্টগোল বাধে। বিলের বিরোধিতায় সরব হন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের সাংসদরা। বিলের বিষয় নিয়ে তুমুল আপত্তি তোলেন সৌগত রায়। তৃণমূল নীতিগতভাবে বিলের বিরোধিতা করছে বলে লোকসভায় সওয়াল সৌগত রায়ের। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে বলে দাবি অধীর চৌধুরীর। বিলের প্রতিবাদে সরব হন আরএসপি-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা। বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে একের পর এক সওয়াল অমিত শাহের। বিরোধীদের আশঙ্কা অমূলক বলে দাবি করে শাহ জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ আছে। ধর্মনিরপেক্ষতার সব শর্ত মেনেই বিল পেশ বলে দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বাংলার সাংসদদের বিলের পক্ষে সমর্থনের আবেদনের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্যগুলিকে এগিয়ে আসার বার্তা অমিত শাহের। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় রাজ্যগুলিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার পরামর্শ অমিত শাহের।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে এসে বছরের পর বছর ধরে বাস করছেন বহু শরনার্থী। সেই শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দিতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বলে দাবি অমিত শাহের। এদিন বিল পেশের পরই বিরোধীদের আক্রমণ সামাল দিতে অমিত শাহ বলেন ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কারও অধিকার ছিনিয়ে নেবে না। বিলে ভেদাভেদ হচ্ছে বলে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে এখনই এই বিল নিয়ে সংসদ ছেড়ে চলে যাব, এক শতাংশ সংখ্যালঘু বিরোধী নয় এই বিল। এই বিল পাশ হলে কারও স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে না। ধর্মনিরপেক্ষতা স্বীকার করে কেন্দ্রীয় সরকার”।

বিলের স্বপক্ষে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন ‘এক সময় বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের এদেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তবে এখন কেনও এই বিল পেশে বাধা দিচ্ছেন বিরোধীরা।’অমিত শাহের বক্তব্য চলাকালীনই নতুন করে ফের হট্টগোল শুরু হয় লোকসভায়। বিরোধী সাংসদদের শান্ত করতে চেষ্টার কসুর ছিল না লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার।