স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে আমফানের ক্ষয়ক্ষতি জানতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁকে ফোনে যত দ্রুত সম্ভব আর্থিক সাহায্য করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বললেন, ৫০০ দিন পরে পেলে লাভ নেই। টাকা এখনই দরকার। করোনা ভাইরাসের দাপট এখনও সামলে উঠতে পারেনি বাংলা। তার উপর আমফান-এর তাণ্ডবে কার্যত বিধ্বস্ত রাজ্য।

বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা। বৃহস্পতিবার সকাল হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ খবর নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে টুইটারে তিনি লেখেন, “আমরা আমপানের বিষয়টি ভাল ভাবে নজর রাখছি। ঝড়ের তাণ্ডবে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।”

এনিয়ে সাংবাদিকদের মমতা বলেন,” এমন ভয়াবহ ডিজাস্টার জীবনে দেখিনি। অমিত শাহ ফোন করেছিলেন। আমি অনুরোধ করেছি, বিপর্যয়ে যে তহবিল থাকে, সেখান থেকে টাকাটা যেন পাই। কতটা পাব জানি না ! ৫০০ দিন পরে পেলে তো লাভ নেই, আমার ইমিডিয়েট প্রয়োজন।” আমফানের ধ্বংসলীলা দেখতে প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যে আসার কথাও ফোনে বলেছেন মমতা।

তাঁর কথায়,”প্রধানমন্ত্রীকে আসতে অনুরোধ করেছি। সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় এসে দেখে যান।” সেই আবেদনেই সম্ভবত সাড়া দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আজ রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০.৪৫ মিনিটে অবতরণ করতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। তারপর তাঁর গন্তব্য বসিরহাট। হেলিকপ্টারে মোদীর সঙ্গে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর টুইট করে জানিয়েছে,’পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিসায় আমফানের পরিস্থিতি দেখতে যাবেন নরেন্দ্র মোদী। আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করবেন। এর পাশাপাশি পর্যালোচনা বৈঠকেও যোগ দেবেন। ওই বৈঠকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা হবে।’ তবে দিল্লির সাহায্য পাওয়ার আগে রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণের জন্য এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, ” ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য পাই পয়সা দেখে খরচ করতে হবে। একবার কাজ করলে তাতে যেন তিন বছরের জন্য হাত দিতে না হয়।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প