নয়াদিল্লি: নির্বাচনের একেবার শেষলগ্নে তিনি এলেন সাংবাদিক বৈঠকে কিন্তু চুপ থাকলেন ৷ শুক্রবার বিকেলে বিজেপির সদর দফতরে এক ঝাঁক সাংবাদিকদের সামনে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাজির ছিলেন , কিন্তু কোনও প্রশ্ন বাণে তিনি মুখ খুললেন না৷ সব প্রশ্নের জবাব দিলেন দলীয় সভাপতি অমিত শাহ ৷ যা দেখে বিভিন্নমহলের মনে হয়েছে, একেবারে পুতুলের মতো মোদীকে পাশে বসিয়ে রাখলেন অমিত শাহ ৷

এমনিতেই মোদী সম্পর্কে বদনাম তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন না৷ কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে গোটা দেশ ঘুরে ঘুরে প্রচার করার সময় তিনি বিভিন্ন জাতীয় এবং আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঠিকই ৷ কিন্তু ওই অবধি ৷ একসঙ্গে বহু সাংবাদিকের মুখোমুখি হননি তিনি৷ নানা দিক থেকে নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্ন বাণ ধেয়ে আসেনি ইদানিং কখনই তাঁর দিকে ৷ কিন্তু আজ সেটা হতে পারত কিন্তু হয়েও হল না৷ দলীয় সভাপতি অমিত শাহ যেন তাঁকে আগলে রাখলেন৷ মোদীর উদ্দেশ্য আসা প্রশ্নও তিনিই জবাব দিলেন ৷ অমিত চাইলেন না, নির্বাচনের একেবারে শেষ লগ্নে এসে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তাঁর গুরু মোদী কোনও রকম বিতর্কে পডুন৷

কখনও কখনও দেখা যায় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনও দলের যে নেতা প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনিই আবার দলীয় সাংগঠনিক প্রধানের দায়িত্বে ৷ একই ব্যক্তি দুই পদে থাকলে কোনও দ্বন্দ্ব নেই ৷ কিন্তু দুই ব্যক্তি আলাদা হলে অনেক সময়ই দ্বন্দ্ব দেখা যায়৷ ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরে পার্টির অন্দরে কে বড় এই নিয়ে বিতর্ক হয়৷ তবে এটা ঠিক, এদিনের সাংবাদিক বৈঠকটি পিএমও থেকে আয়োজন করা হয়নি৷ আয়োজন করা হয়েছে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে এবং হয়েছে দলের সদর কার্যালয়ে৷ দলের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে প্রথাগতভাবে দলের যিনি শীর্ষপদে রয়েছেন তিনিই করে থাকেন৷ সেক্ষেত্রে এখানে সভাপতি হিসেবে অমিত শাহের বৈঠক করাটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু দলীয় সভাপতি

কাউকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার সময় নিজে বললেও, অনেক সময় পাশে বসা নেতাটিকেও বলার সুযোগ দিয়ে থাকেন৷ আজ পাশে বসিয়ে নিজ গুরুকে তেমন সুযোগ দিলেন না মোদীর সেনাপতি৷ বরং অমিত শাহ বললেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর হয়ে আমিই উত্তর দিলাম৷’’