নয়াদিল্লি: দু’দিনের ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর এই সময়েও রাজধানী। সোমবার থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ প্রধানের সঙ্গে মধ্যরাতেই বৈঠক সেরে ফেলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সোমবার দুপুর থেকেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে উত্তর-পূর্ব দিল্লির পরিস্থিতি। রাতভর চলেছে সংঘর্ষের বিচ্ছিন্ন ঘটনা। রাতে গোকুলপুরীর টায়ার মার্কেটে আগুনও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত পুলিশ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার দুপুরে ফের ডেকেছেন বৈঠক।

এদিন দুপুর ১২টায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুখোমুখি হবেন তিনি। থাকবেন লেফট্যানেন্ট গভর্নরও। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক বৈঠকও করেন তিনি।

দিল্লির এই পরিস্থিতির জেরে রাষ্ট্রপতি ভবনে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে পারেননি অমিত শাহ। ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি।

একদিকে ভারত সফরে এসেছেন ট্রাম্প দম্পতি। আর অন্যদিকে একের পর এক মৃত্যুর দেখছে রাজধানী দিল্লি। সোমবার বিকেল থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এদিন দিল্লির পরিস্থিতির যেসব ছবি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে তাতে রাজধানীকে যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। ধ্বংস হয়েছে একের পর এক গাড়ি বাড়ি দোকানপাট সব কিছুই। এমনকি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন ভজনপুর আর একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ইটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে রতনলাল নামে এক পুলিশের হেড কনস্টেবলের। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান রতনলাল। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।