নয়াদিল্লি: সকাল থেকেই নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তপ্ত লোকসভা। সোমবার সকালে লোকসভায় বিলটি পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরই বিরোধীরা একের পর এক আক্রমণ ছুঁড়ে দিতে থাকেন মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে। এই বিলের মাধ্যমে দেশের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন অনেকেই। দিনের শেষে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ।

সকাল থেকেই ধর্ম বিভেদের প্রশ্ন বারবার তুলেছিলেন অধীর চৌধুরী, সৌগত রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেতারা। এমনকি, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই অভিযোগ তুলে ছিঁড়ে ফেলেন বিলের কাগজ। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি কেন এত ঘৃণা আপনাদের?’ তিনি আরও বলেন সিটিজেনশিপ সংশোধনী বিল অভিসন্ধি করেই মুসলিম অভিবাসীদের দেশহীন করতে চাইছে। এই আইন হিটলারের আইনের থেকেও খারাপ। মুসলিমদের অধীনস্থ করে রাখা হচ্ছে”। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই বিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করে।

এইসব বিরোধীদের জবাব দিয়ে অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, ভারতীয় মুসলিমদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা সম্মানের সঙ্গেই বাঁচতে পারবেন। বিভেদ তৈরি করার জন্য এই বিল আনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে মুসলিমদের নাম নেই। উল্লেখ্য, এই বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, ক্রিশ্চানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মুসলিমদের কথা বলা হয়নি। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘ওইসব দেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নয়। তাই মুসলিমদের কথা বলা হয়নি। সংখ্যালঘুদের কথাই কেবলমাত্র বলা হয়েছে।’

সিটিজেনসিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ চলছে দেশের বিভিন্ন অংশ সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও। ছয় দশক পুরনো নাগরিকত্ব বিল সংশোধন করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের অ-মুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করবে। লোকসভায় কংগ্রেস এই বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। তাঁদের বিশ্বাস, “নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতীয় সংবিধান বিরোধী একইসঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি, সংস্কৃতি এবং সভ্যতা বিরোধি”।