মুম্বই: বাণিজ্য নগরীতে এখন দোষারোপের খেলা চলছে। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। ভোটের ফলাফল বেরনোর পর ২০ দিন হয়ে গেলেও সরকার গঠন করে উঠতে পারেনি কোনও পক্ষই। তাই রাজ্যে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। এবার সেই ইস্যুতেই মুখ খুললেন গেরুয়া দলের সেনাপতি অমিত শাহ। তিনি সরাসরি উড়িয়ে দেন শিবসেনার দাবি। তিনি জানান, ভোটের পর শিবসেনার এই দাবি মেনে নেওয়া যায় না।

অমিত শাহ জানান, নির্বাচনের আগেই নরেন্দ্র মোদী ও তিনি বহুবার জনসমক্ষে বলেছিলেন যদি জোট যেতে তবে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তখন কেউ প্রতিবাদ করেননি। অমিত শাহের দাবি, এখন ভোটে জেতার পরে শিবসেনা নতুন দাবি নিয়ে এসেছে, যা তাদের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি।

মহারাষ্ট্রে রাস্ট্রপতি শাসন জারি হওয়াকে সমর্থন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এর আগে কোনও রাজ্যকেই এত সময় দেওয়া হয়নি, ১৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরেই দলগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু শিবসেনা, কংগ্রেস-এনসিপি বা আমরা কেউই সরকার গঠনের দাবি জানাইনি। ” পাশাপাশি তিনি এদিন জানান, যদি কোনও দলের কাছে এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়ক থাকে, তবে তাঁরা আজও সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালের কাছে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন – চাপে পড়ে বন্দি কুলভূষণের বিচারে সেনা আইনের সংশোধন করবে পাকিস্তান

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা দেখা যায়, বিজেপি জিতেছে ১০৫ টি আসন। অন্যদিকে তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা জিতেছিল ৫৬ টি আসন। সরকার গড়তে প্রয়োজন ছিল ১৪৫ টি আসনের। উভয় দলের জোট হওয়াতে সেই নির্দিষ্ট মাত্রা একজোটে পার করতে সক্ষম হয়েছিল দুই দল। কিন্তু গণ্ডগোল বাঁধে ক্ষমতা নিয়ে। শিবসেনার তরফে ৫০-৫০-র কথা বলা হয়। কিন্তু তাতে আমল দিতে আদৌ রাজি ছিল না গেরুয়া শিবির। ফলে ভেঙে যায় জোট। আর তারপর রাজ্যপাল প্রথমে বিজেপি, পরে শিবসেনা এবং তারওপরে এনসিপিকে আমন্ত্রণ জানালেও শেষপর্যন্ত সরকার গড়তে পারেনি কেউ। ফলে মহারাষ্ট্রে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন ।