নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার নাগরিক সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে রাজ্য সভাতে। আর সেখান থেকে হুংকার ছাড়লেন বিজেপির এই সৈনিক যে বাংলা সহ সারা দেশেই কার্যকর করা হবে এই নতুন নাগরিক সংশোধনী আইন।

বিজেপি শীর্ষ নেতাদের মতে নাগরিকত্ব আইনে সব থেকে বেশি ফায়দা হবে পশ্চিমবঙ্গে৷ আর তাই শুরু থেকেই এই রাজ্যতে নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির৷ বিল পেশ করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেনে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ২০০৫ সালের একটি মন্তব্য। তাঁর করা মন্তব্যে নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাও।

রাজ্যসভায় ৯ ঘণ্টা বিতর্কের পর রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভোটাভুটিতে বিল পাশ হয়ে যায়। পক্ষে ভোট পড়েছিল ১২৫টি ও বিপক্ষে ভোট পড়েছিল ১০৫টি। স্বাভাবিকভাবেই এটি ৩৭০-এর পর আরও একটি সাফল্য অমিত শাহের।এই বিল অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান, জৈন সহ সংখ্যালঘুরা প্রয়োজনে ভারতে নাগরিকত্বের দাবি জানাতে পারবেন।

লোকসভাতেই বিরোধীদের জবাব দিয়ে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, ভারতীয় মুসলিমদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা সম্মানের সঙ্গেই বাঁচতে পারবেন। বিভেদ তৈরি করার জন্য এই বিল আনা হয়নি বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। রাজ্যসভা থেকেও বিরোধীদের এদিন একই কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধন বিল নিয়ে শুরু থেকে বিরোধিতা করে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজ্যসভায় বিল পাসের দিন শিল্প সম্মেলন মঞ্চ থেকে তিনি আবারও একতার বার্তাই দিয়েছেন। জানিয়েছেন, একটাই আমাদের সব থেকে বড় শক্তি। আমাদের পরিবার একটাই। ধর্মের ভিত্তিতে আমরা কাউকে ভাগ করি না। কোন বিভাজনের নীতি নেই আমাদের।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০০৫ সালের এক মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছিলেন অমিত শাহ। তাঁর কথাতে লোকসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছিলেন ভোটার তালিকাতে ভারতীয়দের সঙ্গে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নামও পাওয়া যাবে। সেই সময় তিনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন কেন বিরোধিতা করছেন।

হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়ানের মতে এই বিল বাঙালি এবং হিন্দু বিরোধী। জানিয়েছেন এই রাজ্যতে এই আইন প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না।