নয়াদিল্লি: দিল্লির করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। বাড়ছে চাপ। জুনের ১১ তারিখও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অমিত শাহ। তারপর ফের রবিবার শাহের সঙ্গে দেখা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হর্ষ বর্ধন। দেশের রাজধানীতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন।

সেই সঙ্গে ছিলেন দিল্লির লিউটিন্যাণ্ট গভর্নর অনিল বৈজাল এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। এদিনের আলোচনায় দিল্লির করোনা পরিস্থিতির কথা উঠে আসে, সম্প্রতি যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেলাগাম সংক্রমণ শুরু হয়েছে দিল্লিতে।

কিছুদিন আগেই দিল্লির বাসিন্দাদের হাসপাতালে বেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং করোনা উপসর্গযুক্তদের পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছিলেন দিল্লির লিউটিন্যাণ্ট গভর্নর অনিল বৈজাল।

আনলক ১ পর্বে গোটা দেশের মতোই দিল্লিতেও চালু হয়ে গিয়েছে পরিবহণ ব্যবস্থা। খুলেছে দোকান-বাজার, রেস্তোরাঁ। সেই কারণেই দিল্লিতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

দিল্লিতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। খোদ দিল্লির সরকারের তরফেও সেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে মঙ্গলবার আলোচনায় বসেছিলেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা দিল্লির সরকারকে আশ্বস্ত করেন। দিল্লিতে এখনও করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি বল জানায় কেন্দ্র। তবে সতর্কতামূলক সব ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পরামর্শ দেওয়া হয় কেজরিওয়ালের সরকারকে।

এদিকে জানা যাচ্ছে, বেলাগাম সংক্রমণের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের শেষকৃত্যে সময় লাগছে। শ্মশানে গিয়ে কমপক্ষে ছয়’ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে , সেখান থেকেই আরও বেড়ে যাচ্ছে সংক্রমণ।

বেলাগাম সংক্রমণে দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি। শনিবার ২১৩৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। ৫৭ জনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা ১,২৭১ জন। হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে শ্মশান অবধি পৌঁছতে যতটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তারফলে বেড়ে যাচ্ছে সংক্রমণ।

প্রসঙ্গত, রবিবার দেশজুড়ে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন অনেকেই। শেষ ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হলেন মোট ১১ হাজার ৯২৯ জন। যা এখনও অবধি সর্বাধিক। নতুন আক্রান্তের জেরে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ২০ হাজার ৯২২ জন। শুধু আক্রান্ত না, দেশে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। শেষ ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩১১ জনের। মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ১৯৫ জনের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ