স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার অন্তর্গত বিলকান্দার চেয়ার তৈরীর কারখানায় সোমবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে৷ আপাতত আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এলেও, বেশ কয়েকজন শ্রমিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে দমকল সূত্রে খবর৷ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেই সব শ্রমিকদের কোনও হদিশ মেলেনি৷

রাতভর দমকলকর্মীরা কাজ করেছনে ঘটনাস্থলে৷ মঙ্গলবার সকালেও ওই চেয়ার কারখানার জানালা দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। প্রায় ২২ ঘণ্টা অতিক্রম হয়ে গেলেও এখনও ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আগুন আতঙ্কে রেখেছে এলাকাবাসীকে৷

এদিকে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে দেখা গেল কারখানার নিখোঁজ ৫ কর্মীর পরিবারের সদস্যরা কারখানার গেটের সামনে তাদের প্রিয়জনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও দমকলকর্মীরা এখনও নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান পায়নি৷ স্থানীয় সূত্রের খবর, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৫ জন শ্রমিকের হদিশ নেই৷

নিখোঁজ ওই শ্রমিকদের নাম মুন্না প্রসাদ রায়, পল্টু দুয়ারী, নিত্যানন্দ রায়, সুভাষ রায় এবং সঞ্জীব পারিয়া। এদিকে এদিন দেখা গেল গোটা কারখানার বিল্ডিংয়ে আগুনের তাপে ফাটল ধরেছে। বিল্ডিংয়ের তিনতলায় দমকলকর্মীরা উঠে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান শুরু করেছে৷ উত্তেজনা নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থলে রয়েছে ঘোলা থানা এবং নিউ বারাকপুর থানার পুলিশ৷

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক ড:অমিত মিত্র৷ তিনি নিজে সরেজমিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷ কথা বলেন প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে। এদিকে ঘটনাস্থলে মঙ্গলবার ফরেনসিক দল পরীক্ষার জন্য আসে, তারা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।

গত ২৪ ঘন্টা ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। মন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে । দমকলকর্মীরা এবং স্থানীয় শ্রমিকরা এবার তিনতলায় উঠে দেখবেন নিখোঁজরা কেউ আটকে রয়েছে কি না, যদি কেউ আটকে থাকে তাকে উদ্ধার করা হবে । সরকার মৃত বা আহতদের যথাযথ সাহায্য করবে ।’