কলকাতা: যা পরিস্থিতি তাতে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে জিএসটি বাবদ ক্ষতিপূরণ পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্য পাবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের৷ যেহেতু এই বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছে ৷ জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস আদায় চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১.৫ শতাংশ হারে বেড়েছে অথচ ২১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি ধরা হয়েছিল। আর কেন্দ্র এই সেস থেকে প্রাপ্ত আয় থেকেই রাজ্যগুলিকে জিএসটি খাতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।

মঙ্গলবার বণিকসভা সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ সেখানেই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ আদৌ কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে দিতে পারবে কিনা ৷ পাশাপাশি ব্যাখ্যা করেন , তেমনটা ঘটলে রাজ্যগুলি রীতিমতো আর্থিক সঙ্কটে পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেক্ষেত্রে অনেক রাজ্যকে ওভারড্রাফটও নিতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে অমিত মিত্র মনে করান, কেন্দ্র হঠাৎ কেন্দ্রীয় কর বাবদ আদায়ের অংশ হিসাবে রাজ্যগুলির প্রাপ্য কমিয়ে দিয়েছে যাতে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে কেন্দ্রের মোট রাজস্ব আদায়ের সেস ও সারচার্জ ছিল ৬ শতাংশ, এখন সেটা বেড়ে ১৮ শতাংশ। অথচ এই সেস, সারচার্জ আদায়ের কিছুই রাজ্যগুলি পাচ্ছে না। জিএসটি ক্ষতিপূরণ পাওয়াটা রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার হলেও পশ্চিমবঙ্গের বিপুল পাওনা কেন্দ্র দিচ্ছে না।

ডিসেম্বরে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট পাওনার একটা অংশ পশ্চিমবঙ্গ সম্প্রতি কেন্দ্রের কাছ থেকে পেলেও জানুয়ারির পাওনার গোটাটাই বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা। এই আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ রাজ্যে উন্নয়নের গতিতে সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে মন্ত্রীর দাবি করেন। তাছাড়া জিএসটি সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য নেটওয়ার্ক নিশ্ছিদ্র না করে মোদী সরকারের তাড়াহুড়ো করে জিএসটি চালু করার সমালোচনা করেন তিনি ৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব