নয়াদিল্লি: দ্বিতীয়বারের জন্য বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ঠিক তাঁর আহেই রাষ্ট্রপতিভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সহ নির্মলা সীতারমণের গোটা দল। আগের বছরের মতই তাঁর হাতে দেখা গিয়েছে লাল শালুতে মোরা ‘বহি-খাতা’।

দেশে আর্থিক মন্দার মধ্যে দ্বিতিয়বার বাজেট পেশ করবেন দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই পরিস্থিতিতে বাজার ফেরাতে কি পদক্ষেপ নেন সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সকলে। ২০২০-২০২১ সালের বাজেট উপভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে নতুন কি করা হ্য সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সকলে।

মোদী সরকার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল এই অর্থবর্ষে প্রত্যক্ষ কর আদায় হবে ১৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত আর্থিক বছরের তুলনায় ১৭শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক মন্দার জেরে চাহিদা কমে আসায় সংস্থাগুলি লগ্নি এবং কর্মসংস্থান কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতির দরুন সরকার তাদের বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ বাণী কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। এই অর্থবর্ষে যা গত ১১ বছরের সর্বনিম্ন। ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কর দফতর মাত্র ৭.৩ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যা গত বছরের এই সময়ের আদায়ের চেয়ে ৫.৫ শতাংশ কম বলে জানিয়েছেন কর দফতরের এক আধিকারিক।

গত তিন বছরের তথ্য অনুসারে প্রথম তিনটি ত্রৈমাসিকে সংস্থার কাছ থেকে অগ্রিম কর বাবদ যা আদায় হয় তা শেষ তিন মাসের ৩০-৩৫ শতাংশ। রয়টার্স আটজন সিনিয়র কর অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে তাদের রীতিমতো চেষ্টা সত্ত্বেও এই অর্থবর্ষে প্রত্যক্ষ কর আদায় ১১.৫ লক্ষ কোটি টাকার কম হবে যা আদায় হয়েছিল ২০১৮-১৯ সালে। এক কর অফিসারের বক্তব্য, লক্ষ্যমাত্রা ভুলে যান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী এই বছর গত অর্থবছরের তুলনায় মোটামুটি ১০ শতাংশ কম হবে।

মোটের ওপর প্রত্যক্ষ কর হল সরকারের বার্ষিক আয়ের ৮০ শতাংশ। এমনটা ঘটলে সরকার বাধ্য হবে খরচ মেটাতে আর ও ধার করতে। কর অফিসারের বক্তব্য অবাক করা কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার প্রচেষ্টা হল অন্যতম প্রধান কারণ কর আদায়ের এমন দুর্দশার। এক কর আধিকারিক জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতি তাতে যদি গত বছরের সমান কর আদায় রাখা যায় তাহলে খুশি হবেন তিনি।

দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙেছেন খোদ সীতারামন। ব্রিটিশ জমানার ‘‌বাজেট ব্রিফকেস’–এর বদলে হাতে একটি লাল রংয়ের ফাইল নিয়ে সংসদে উপস্থিত হলেন তিনি। যা নিয়ে আধিকারিকরা বলেন, ওটা আসলে ‘‌বহি খাতা’। লাল রংয়ের ওই ফোল্ডারে আছে অশোকস্তম্ভও।

কেন ব্রিফকেসকেই বাজেটের প্রতীক হিসাবে ধরা হত?‌ আসলে ‘‌বাজেট’‌ এই শব্দটি এসেছে ফরাসি ভাসা ‘‌বউগেট’‌ থেকে। যার অর্থ চামড়ার ব্যাগ। রীতি অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী এই বাজেট ব্রিফকেস বহন করে নিয়ে আসেন। অতীতে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে এই ব্রিফকেস নিয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও ১৯৯১ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী থাকার সময় এই ব্রিফকেস হাতে সংসদে প্রবেশ করেছিলেন। তখন তার রং ছিল কালো। সেই সময় সবচেয়ে ভালো বাজেট পেশ হয়েছিল বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

অটলবিহারি বাজপেয়ীর আমলে যশবন্ত সিন্‌হাকে কালো রঙের বাজেট ব্রিফকেস হাতে দেখা গিয়েছিল। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি মনমোহন সিংয়ের আমলে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন লাল রঙের ব্রিফকেস হাতে নিয়েছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.