নয়াদিল্লি: সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান৷ বার বার বিনা প্ররোচনায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের পরেও থামছে না ইসলামাবাদ৷ এবার সীমান্ত বরাবর কমাণ্ডো মোতায়েন করল তারা৷ ১০০ জনেরও বেশি স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ বা এসএসজি কমান্ডো নিয়োগ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পরেই সতর্ক হয়ে গিয়েছে ভারত৷ ভারতীয় সেনা কড়া নজরদারি শুরু করেছে সীমান্ত বরাবর৷ এই কমান্ডোরা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন, যেমন জইশ ই মহম্মদ, লস্করের মতো সংগঠনগুলিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে বলে তথ্য মিলেছে৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের আসল চেহারা, জঙ্গি হাফিজের সঙ্গে এক পোস্টারে ইমরান

এই কমান্ডোরা পাক সেনাকে সীমান্তে গুলির লড়াই জারি রাখার প্ররোচণাও দিচ্ছে৷ সাহায্য করছে গুলির লড়াই ও ভারি মর্টার শেলিংয়ে৷ মূলত সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় গ্রামগুলিতে হামলা চালানো হচ্ছে, এতে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকছে৷ তবে পালটা তৈরি রয়েছে ভারতও৷ ভারতের ছোড়া গুলিতে বেশ কয়েকজন পাক সেনার মৃত্যুর খবর এসেছে৷ পাকিস্তান সরকারও সেই তথ্য স্বীকার করেছে৷

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলি জানাচ্ছে, পাকিস্তানের সীমানায় স্যার ক্রিক এলাকায় এরা ঘাঁটি গেড়েছে৷ এর আগে জানা গিয়েছিল দেশের সীমান্ত বরাবর মাথচাড়া দিয়ে উঠেছে ১৬ টি জঙ্গি ঘাঁটি। কাশ্মীর উপত্যকায় মাটি শক্ত করতেই সীমান্ত এলাকায় চোরা-গোপ্তা অনুপ্রবেশ চালাচ্ছে তারা।

এই তথ্য পাওয়ার পরেই সীমান্ত বরাবর নজরদারি বাড়ায় ভারত৷ জানানো হয় পাক সেনা এবং আইএসআইয়ের সমস্ত কার্যকলাপের গতিবিধির ওপর নজর রাখছি আমরা। আমরা নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। তাঁদের কোন রকম গণ্ডগোলের খবর পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ব।”

আরও পড়ুন : বাবাকে খুনের ছক কষছেন ইমরান, দাবি করলেন বিলাওয়াল

সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, জইশ ই মহম্মদের সাহায্যে ১২ জন আফগান জিহাদি লেপা উপত্যকায় ঘাঁটি তৈরি করেছে৷ এরা পাকিস্তানের ব্যাট (BAT)কে হামলা চালাতে সাহায্য করছে৷ জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই রউফ আজহার ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে একটি বৈঠক করেছে৷ অগাষ্ট মাসের ১৯-২০ তারিখ নাগাদ এই বৈঠকটি হয়৷ কীভাবে ভারতীয় সেনার ওপরে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে হামলা চালানো হবে, তার খসড়া তৈরি হয়েছে ওই বৈঠকে বলে খবর৷

ধারাবাহিক বিস্ফোরণ করানোর জন্য মূলত তাদের টার্গেট নয়াদিল্লি৷ এছাড়াও দেশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গার তালিকা তৈরি করা হয়েছে৷ এই মর্মে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে সব কটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে৷ একই সতর্কবার্তা এসেছে বিএসএফের কাছ থেকেও৷ তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য৷

জানা গিয়েছে পাকিস্তানে ছড়িয়ে থাকা জইশ জঙ্গিরা ভারতের রোহিঙ্গা মুসলিম কমিউনিটির সাহায্যে ভারতের অন্তর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্যের ওপর জোর দিচ্ছে৷ জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে দেশের সফট টার্গেট এলাকাগুলি, যেখানে সাধারণত নিরাপত্তার কড়াকড়ি নেই৷