নয়াদিল্লি: ইভিএম সুরক্ষা নিয়ে তোলপাড় দিল্লি সহ গোটা দেশ৷ বিরোধীদের অভিযোগ, ইভিএমে কারচুপি করে জনাদেশের রায় পাল্টে ফেলার চক্রান্ত করেছে বিজেপি৷ কিন্তু সত্যিই কি ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব? প্রশ্ন উঠছে অনেকের মনেই৷

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী অফিসার রণবীর সিং সব শঙ্কা দুর করে জানান, কোনও মতেই ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব নয়৷ কারণ ভোটযন্ত্রে পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়৷ ইভিএম তৈরি করা হয়েছে এমন ভাবে যে সেখানে কারচুপি করার কোনও জায়গা নেই৷

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে রণবীর সিং বলেন, ‘‘কোনও অবস্থাতে ইভিএমে কারচুপি বা গরমিল বা হ্যাক করা সম্ভব নয়৷ কারণ এর সঙ্গে বাইরের জগতের কোনও যোগাযোগ নেই৷’’ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ইভিএমের সঙ্গে ইন্টারনেট, ওয়াইফাই বা ব্লু টুথের কোনও সংযোগ নেই৷ ফলে মেশিনে কারচুপি হবে কী ভাবে?’’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলেকট্রনিক কপোর্রেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড ইভিএমগুলি তৈরি করে৷ সেগুলি তৈরির সময় সর্বোচ্চ মাপের নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়৷ ফলে ইভিএমের প্রোগামিং কেউ বদলানোর চেষ্টা করলে মেশিন তখন কাঁপতে(ভাইব্রেট) শুরু করবে৷ পরে সেটি সুইচ অফ হয়ে যাবে৷ তারপর কার্যকারিতা হারাবে৷ অর্থাৎ দ্বিতীয়বার এই মেশিন ব্যবহার করা যাবে না৷ কারণ ইভিএমগুলিতে ওয়ান টাইম প্রোগামেবল চিপ ভরা থাকে৷

রাজনৈতিক দলগুলি ইভিএম বদলে দেওয়ার যে অভিযোগ তুলছে সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা৷ জানান, কড়া নিরাপত্তার মাঝে ইভিএমগুলি নির্দিষ্ট রাজ্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়৷ ফলে ইভিএম বদলে দেওয়ার যুক্তিও খাঁটে না৷ তাছাড়া ভোট শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সেটি সিল করা হয়৷ সিল খোলার সময় একই নিয়ম খাটানো হয়৷

যখন মক পোল হয় সেটিও সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে করা হয়৷ সব কিছুই রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে হয়৷ ইভিএম কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটি জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করা হয়৷ নির্বাচনী আধিকারিকরাও জানেন না কোন মেশিন কোন বুথে যাবে৷ ফলে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগের কোনও যৌক্তিকতা নেই বলেই দাবি কমিশনের আধিকারিকদের৷