নয়াদিল্লি: করোনা রুখতে দেশজুড়ে ২৪ মার্চের পর থেকে চলছে লকডাউন। মারণ ভাইরাসকে ঠেকাতে সকল বিশ্ববাসীকে এক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে সব দেশ। কিন্তু তাতে কী? আদৌ তাতে হয়তো বিশেষ আমল দিতে নারাজ পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। অন্যদিকে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, করোনার মধ্যেও গতবছরের তুলনায় বেশিবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান।

করোনা ভাইরাসের মারণ ভয় থাকা সত্ত্বেও লাইন অফ কন্ট্রোলে ২০২০ থেকেই ছড়িয়েছে সংঘাত। কখনও ভারতীয় সেনা বনাম পাক সেনা আবার কখনও ভারতীয় সেনা বনাম জঙ্গি সংগঠন বারেবারেই উত্তপ্ত হয়েছে কাশ্মীর।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জানুয়ারিতে মোট ৩৬৭বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। ফেব্রুয়ারির ২৯ দিনে সংখ্যাটা ৩৬৬। আর মার্চে তো সীমা অতিক্রম করেছে পাকিস্তান। মার্চ মাস জুড়ে মোট ৪১১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই ইতিমধ্যে ৫৩ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

২০১৯ সালে বছরের প্রথম তিন মাসে পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছিল ৯১৯ বার, ২০১৮ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ৮০২ বার। আর এবার ২০২০ সালে প্রথম তিন মাসে ঘটেছে মোট ১১৪৪ বার। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতি থাকলেও নিজের কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবারেও সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ৪০ নাগাদ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে কাশ্মীরের মানাকোটে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে পাক বাহিনী। গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি মর্টার শেলিংও করে পাকিস্তান। এরপরেই খোলা হাতে জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও। যার জেরে করোনা আবহে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলওসি।

উল্লেখ্য, করোনা আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব। প্রায় একই অবস্থা ভারত, পাকিস্তানেরও। কিন্তু তাতে কী? কাশ্মীরে পরিস্থিতি সেই একই আছে। কখনও জঙ্গি, আবার কখনও পাক সেনা এই দুই বাহিনীর সঙ্গে প্রতি নিয়ত কড়া টক্কর দিতে হচ্ছে ভারতীয় জওয়ানদের।

করোনা মৃত্যু পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান যেভাবে এই হামলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের দরবারে তাঁদেরই নাক কাটা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।