নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে অশান্তির আবহে ট্যুইট করে শান্তির ডাক দিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘কিছু বিশেষ সুবিধাবাদী গোষ্ঠী’ অশান্তি পাকাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এবারে এই আইন প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি জানান, গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই যা খুশি করা নয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে যখন বিক্ষোভ-প্রতিবাদের আঁচ ভারতের নানা প্রান্তে ঠিক সেই সময়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সোমবার নয়া দিল্লির ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দফতরে অটলবিহারী বাজপেয়ী মেমোরিয়াল হলে একটি ভাষণের সময়ে কেন্দ্রের সরকারকে নিশানা করেন তিনি। এদিন তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটা সুস্থ সবল সরকার গড়তে সাহায্য করে। ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বেচ্ছাচারিতার কোনও স্থান নেই।’

এরপরেই নাগরিক সংশোধনী আইন নিয়ে কেন্দ্রের কঠোর মনোভাবকে নিশানা করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানে যা খুশি করা নয়। ভারতে নানা ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় রয়েছে। গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের এই পরিবেশ যেন লঙ্ঘিত না হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে রাজ্যসভা এবং লোকসভা দুইকক্ষ থেকে পাস হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ‘ক্যাব’। এরপরেই গত বুধবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সই করার পরেই আইন হিসাবে সারা দেশে আত্মপ্রকাশ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। এই আইনের বিরোধিতায় উত্তাল হয়ে ওঠে অসম, ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি। নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের প্রভাব এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গেও।

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ঘিরে অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। গত রবিবার এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের রাজধানী দিল্লিতেও। পরপর ছ’টি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে সোমবার অমিত শাহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের রাজনীতির বদলে নিজেদের পাঠ্যক্রমে মনোযোগ দিতে বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের রাজনৈতিকভাবে ‘দিকভ্রষ্ট’ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.