নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় বিজেপি সরকার কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়েছে। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য এবার ৩০,০০০ হাজার কর্মীকে নিয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গে পাঠাবে। যারা রাজ্যের মানুষদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কে অবগত করবেন, ভূল ধারণা দূর করতে সাহায্য করবেন।

সূত্রের খবর, বিজেপি কর্মীরা প্রত্যেক সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কে বোঝাবেন এবং এই আইনকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবেন।  ভারতীয় জনতা পার্টির এই উদ্যোগ জানুয়ারির শেষের দিকে শুরু হবে। দলের কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ এই বিষয়ে বিজেপির মহিলা শাখার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো হবে।

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিবাদের মাত্রা কমাতে একাধিকবার বলেছেন যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সঙ্গে এনআরসির কোনও সম্পর্ক নেই। এছাড়াও সিএএ ভারতে বসবাসকারীদের উপর কোনও বিপরীত প্রভাব ফেলবে না। দেশজুড়ে প্রতিবাদের এত মানুষের ক্ষতি দেখে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছিলেন শান্তি বজায় রাখতে।

সোমবার বিজেপির তরফে একটি অ্যাানিমেটেড ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে যেখানে দেখা যাচ্ছে, দু’জন মুসলিম নাগরিক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের এবং এনআরসি নিয়ে আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন।

দেশে প্রতিবাদের পারদ চড়তে শুরু করলে কেন্দ্র দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে ১৪৪ ধারা করা হয়। হিংসার ছবি অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে না পরায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।

সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে বিজেপির তরফে প্রচার শুরু করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর আগে, বিজেপির শরিক দল শিরোমণি আকালি দল মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সরব হয়েছেন। ভারতের গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষতার শপথের দিকে তাকিয়ে ত্য এই সিদ্ধান্ত, জানানও হয়েছে দলের তরফে।

সদ্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ২০১৯ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হিন্দু, শিখ, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করবে যারা ২০১৪ সালে ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।