মুম্বই: প্রবল চাপের মুখে বোর্ডের নতুন সংবিধানে বদলাতে পারে স্বার্থের সংঘাতের শর্ত৷ সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বোর্টের অ্যামিকাস কিউরি পিএস নরশিমা পুর্নবিবেচনা করতে পারেন বিষয়টি নিয়ে৷

লোধা কমিটির প্রস্তাবিত স্বার্থের সংঘতাতের প্রধান শর্তই ছিল এক ব্যক্তি, এক পদ৷ অর্থাৎ, একই ব্যক্তি বোর্ডের সঙ্গে জড়িত একাধিক পদে আসীন হতে পারবেন না৷ এই শর্ত মেনে নিলে বহু প্রাক্তন ক্রিকেটারের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বোর্ডের মূলস্রোতে ঢোকা সম্ভব হবে না৷ তা সে ক্রিকেটীয় বিষয়েই হোক, অথবা প্রশাসনে৷ শেষ পর্যন্ত বিষয়টিকে ভারতীয় ক্রিকেটের ক্ষতি হিসাবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: দুরন্ত ফর্মে থাকলেও রাসেলকে দলে রাখতে আগ্রহী নয় বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি

অনুর্ধ্ব-১৯ ও ভারতীয়-এ দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে একারণেই আইপিএলের আঙিনা থেকে সরে যেতে হয়েছে৷ সিওএ চেয়েছিল দ্রাবিড় ও শাস্ত্রী কোচিংয়ের পাশাপাশি অন্ততপক্ষে ধারাভাষ্যকার হিসাবে কাজ করুন৷ বিনোদ রাইদের এই পরিকল্পনাও আটকে যায় নিয়মের ফাঁদে৷ এবছর সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর হওয়া নিয়ে পুনরায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন৷ ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বোর্ডের ওম্বাডসম্যান ডিকে জৈনকে, যিনি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে নিজের রায় শোনাননি৷

বহু রাজ্য সংস্থা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ক্রিকেটের উন্নতিতে ব্যবহার করতে পারছে না৷ এমনকি ব্যক্তিগত অ্যাকাডেমি থাকায় বহু প্রখ্যাত ক্রিকেটার সরাসরি ক্রিকেট প্রশাসনে আসতে পারছেন না৷ এই অবস্থায় যে প্রশ্নটা বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে তা হল, বোর্ড কোনওভাবে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের উপার্জন আটকাতে পারে কি না?

আরও পড়ুন: মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ক্রিকেটার মা ও সন্তানের

বোর্ডের অনুমোদিত রাজ্য সংস্থার এক সদস্য বলেন, ‘ক্রিকেটারদের জন্যই আজ এই জায়গায় ভারতীয় ক্রিকেট৷ লোধা কমিটির সুপারিশ মেনে নিলে অ্যাকাডেমি চালান এমন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা প্রশাসনে আসতে পারবেন না৷ অথচ প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বেশিরভাগেরই উপার্জনের প্রধান রাস্তা হল অ্যাকাডেমি কোচিং৷ সেটা জলাঞ্জলি দিয়ে কেউ কেন প্রশাসনে আসতে চাইবেন?’

উল্লেখ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে অত্যন্ত শপল কোচ চন্দ্রকান্ত পন্ডিতকে ভারতীয় মহিলা দলের দায়িত্ব নিতে বলে হয়েছিল৷ তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন তাঁর নিজের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি রয়েছে বলে৷ প্রবীণ আমরে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ম্যানেজিং কমিটি থেকে ইস্তফা দেন আইপিএলে দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে৷

আরও পড়ুন: নন-স্ট্রাইকারদের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছেন অশ্বিন

অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ জাতীয় কোচ এবং নির্বাচককে বিগ ব্যাশ লিগে ধারাভাষ্য দেওয়ার অনুমতি দেয়৷ এই নজিরকে সামনে রেখে সিওএ চাইছে স্বার্থের সংঘাতের শর্ত শিথিল করা হোক৷ বল আপাতত ডিকে জৈন ও পিএস নরশিমার কোর্টে৷