লখনউ: স্মৃতি ইরানির প্রচার সঙ্গীর খুন নিয়ে কড়া হল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন৷ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে খুনীদের, নির্দেশ জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ তাঁর নির্দেশ যেভাবেই হোক ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের পুলিশের জালে তুলতে হবে৷ অন্যথা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য লখনউয়ের আইজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷

এদিন নিজের বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্মৃতি ইরানির প্রচারসঙ্গী ও আমেঠির বারাউউলিয়া গ্রামের প্রাক্তন প্রধান সুরেন্দ্র সিংকে খুনের ঘটনা রীতিমত দুর্ভাগ্যজনক৷ মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, আগামি ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের নিদান দিয়েছেন আদিত্যনাথ৷

আরও পড়ুন : ‘অহংকারের পতন হল’, তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে পোস্টার পড়ল পুরুলিয়া জুড়ে

উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি ওপি সিং জানান, ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে৷ এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য ৩ কোম্পানি প্রাদেশিক সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী রাখা হয়েছে৷ খুব দ্রুত এই ঘটনার ফয়সলা পুলিশ করে ফেলতে পারবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ডিজিপি৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মত ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এই কুনের কিনারা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

ডিজিপি জানান, মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বেশ কিছু সূত্র হাতে পেয়েছে পুলিশ৷ যা তদন্তের কাজে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ এই ঘটনায় রাজনৈতিক হিংসা কাজ করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের৷ তবে মৃতের পরিবারের দাবি কংগ্রেসের সমর্থকরাই এই খুনের পিছনে রয়েছে৷

এদিকে, শনিবার রাতে খুন করা হয় আমেঠির বারাউলিয়া গ্রামের প্রাক্তন প্রধান সুরেন্দ্র সিংকে। গুলি করা হত্যা করা হয় তাঁকে। আমেঠির বারাউলিয়া গ্রামের প্রধান ছিলেন সুরেন্দ্র৷ শনিবার রাতে তাঁর উপর অতর্কিতে হামলা করা হয়৷ গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ৫০ বছরের সুরেন্দ্র৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে লখনউয়ের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায় সে৷

আরও পড়ুন : বামেদের ভোটেই বাংলায় তৃণমূলের হার হয়েছে: বিস্ফোরক সৌরভ

নিহত সুরেন্দ্র স্মৃতি ইরানীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই জানা যায়। স্মৃতি ইরানীর জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। আমেঠিতে স্মৃতির প্রচারে থাকতেন সুরেন্দ্র সিং।

খবর পেয়েই তাই স্মৃতি ইরানি দিল্লি থেকে আমেঠি পৌঁছান। মৃত সুরেন্দ্রর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সুরেন্দ্রর শবদেহ নিজের কাঁধে নিয়ে যান শেষকৃত্যের জন্য। ভোট প্রচারে সর্বক্ষণ তাঁকে স্মৃতি ইরানির পাশেই দেখা যেত৷ সেই বিজেপি নেতা সুরেন্দ্র সিংকে গুলি করে খুন করা হল৷ অনুমান, রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে সুরেন্দ্র৷