নয়াদিল্লিঃ  লাদাখসহ ভারতের পূর্ব দিকে এলএসি বরাবর গত তিন বছরে নিজেদের শক্তি তিন গুণ বাড়িয়েছে কমিউনিস্ট চিন। গত বছরখানেক আগে ডোকালমে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ছিল ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী। যদিও পরবর্তীকালে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়।

যদিও এরপর থেকেই সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে বেজিং। এবং নজর এড়িয়েই ভারত-চিন সীমান্তজুড়ে সামরিক কার্যকলাপ শুরু করে বেজিং। এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ভূ-রাজনৈতিক সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা স্ট্র্যাটফরের একটি রিপোর্টে এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে।

তাঁদের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর নিজেদের শক্তি তিন গুণ বাড়িয়ে নিতে সফল হয়েছে বেজিং। প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রায় পুরো সময়ই সীমান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থিতাবস্থা ফেরাতে এই মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটাতে চাইছে ভারত এবং বেজিং।

আর এর মধ্যেই এলএসি বরাবর চিন ক্রমশ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে ফেলেছে। মার্কিন সংস্থার এই রিপোর্ট দিল্লির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের ছবি পরীক্ষা করে স্ট্র্যাটফর। আর তা পরীক্ষা করে এই সংস্থা জানাচ্ছে, ভারত চিন সীমান্ত বরাবর লালফৌজ ব্যাপক সামরিক ঘাঁটি এবং পরিকাঠামো তৈরি করেছে।

শুধু তাই নয়, স্যাটেলাইট ফুটেজে পরিস্কার যে ডোকলাম এবং লাদাখ সংঘাতের পরের পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক। যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের। ওই রিপোর্টে বলা হয়, এলএসি সংলগ্ন এলাকায় কমপক্ষে ১৩টি নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলতে শুরু করেছে বেজিং।

এর মধ্যে তিনটি বিমানবাহিনী ঘাঁটি, পাঁচটি স্থায়ী আকাশসীমা প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং পাঁচটি হেলিপোর্ট রয়েছে। তবে লাদাখ সংঘাতের পরই হেলিপোর্টগুলি নির্মাণের কাজ শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। এছাড়াও রেডিও সিগন্যাল, রাডার এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ধারণ করার জন্য রয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন।

যদিও আজ মঙ্গলবার ভারত-চিন বৈঠক শেষে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বিদেশমন্ত্রক। ষষ্ঠ রাউন্ড বৈঠক শেষে মঙ্গলবার বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করা হল কেন্দ্রের তরফে।

এদিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর ভারত ও চিনের কমান্ডারদের মধ্যে ষষ্ঠ রাউন্ড বৈঠক শেষ হল। দুই দেশের তরফে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশই লাদাখের ফ্রন্টাকাইনে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।