ফাইল ছবি৷

ওয়াশিংটন: সংসদে সোমবার রাত ১২টায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিল পাস হওয়ার পরেই সমালোচনা মুখর হয়েছে আমেরিকার ফেডেরাল কমিশন। এই বিলকে ‘ভুল পথে এক বিপদজনক মোড়’ বলে উল্লেখ করেছে তাঁরা।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিশন। এই বিল প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, ভারতের বহুত্ববাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে লঙ্ঘিত করবে এই বিল। এরফলে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যতাও ক্ষুণ্ণ হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

সোমবার মধ্যরাতে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিল অনুযায়ী ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান,বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দু,খ্রিস্টান,বৌদ্ধ,শিখ,পার্সি এবং জৈনরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আগে ভারতে এলে তাঁদের অনুপ্রবেশকারীর বদলে শরণার্থী হিসাবে গ্রাহ্য করা হবে।

সেই অনুযায়ীই তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু এই বিলে মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। এখানেই বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু, ৩১১টি ভোটের বিপুল সমর্থনে পাস হয়ে যায় এই বিল। এই বিলের বিপক্ষে মাত্র ৮০টি ভোট পড়ে। ফলে মসৃণভাবেই লোকসভায় পাস হয়ে যায় এই বিল।

এই বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ভারতের কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এই বিলের ফলে পড়শি দেশের সংখ্যালঘু যারা প্রতিনিয়ত নিপীড়িত হতেন তাঁদেরকে নতুন আশা দেখাবে।

এই বিল প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘ এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের ১৩০ কোটি জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখেই গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইস্তাহারেও আমাদের এই বিল প্রাধান্য পেয়েছে। তাই এই বিল লোকসভায় আনতে পেরে আমি খুশি।’ বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের মাঝেই পাস হয়ে যায় এই বিল।

কিন্তু, এই বিল পাস হওয়ার পরেই মার্কিন ফেডেরাল কমিশনের দফতর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যদি লোকসভা এবং রাজ্যসভা দুই কক্ষেই এই বিল পাস হয়। তবে, অমিত শাহ এবং অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে আমেরিকা।

এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘এই নাগরিক সংশোধনী বিল ধর্মীয় ভাগাভাগির উপর ভিত্তি করে তৈরি।’ভারতের বহুত্ববাদের পক্ষে বিপদজনক বলেও মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘এই বিল ভুলপথে এক বিপদজনক মোড়। ভারতের সংবিধানকে অস্বীকৃত করছে এই বিল। সংবিধানে সাম্যের অধিকার লঙ্ঘিত করেছে এই বিল।’

আগামী বুধবার রাজ্যসভায় পেশ হতে চলেছে এই বিল। তার আগে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এ হেন হুঁশিয়ারির ফলে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ